এই হাউজপ্ল্যান্টগুলো আপনার অন্দরসজ্জাকে ভিন্নমাত্রা দেবে

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

যারা কিছুটা প্রকৃতিপ্রেমী, নিজ বাড়িতে যাদের বাগান করার শখ, কিন্তু বাসার সামনে উঠোনের অভাবে তা হয়ে উঠছে না, তাদের জন্য ছাদবাগান আদর্শ। কিন্তু ভাড়া বাড়িতে থাকলে বাড়িওয়ালার ছাদে আপনার শখের ছাদবাগানটি হবে কী করে?

শখ মেটাতে অনেকে বারান্দাকে আস্ত বাগানে রূপ দেন। তবে প্রকৃতিপ্রেমের সাথে যদি মনে থাকে সৌখিনতা, আর পরিপাটি গৃহসজ্জার আকাঙ্ক্ষা, তবে একটা ঘরে বাগান না বানিয়ে পুরো বাসাতেই প্রকৃতির সজীবতার নির্যাস দেয়া যেতে পারে। আর তার জন্য চাই চমৎকার কিছু হাউজপ্ল্যান্ট আইডিয়া।

একমনে ভাববেন যেখানটায় বসে

যদি অন্দরের সাজসজ্জা নিয়ে সচেতন হোন, তাহলে আপনার বাসায় একটি সুন্দর ইজিচেয়ার আছে নিশ্চয়ই। এই চেয়ারে হেলান দিয়ে নানা ভাবনায় হারিয়ে যেতে আপনার সঙ্গী হতে পারে সিলিং থেকে মেঝে অবধি ঝুলে যাওয়া কিছু ঝুলন্ত হাউজপ্ল্যান্ট। একাধিক ঝুলন্ত লতাগুল্ম দিয়ে ইজিচেয়ারটা বেষ্টন করে ফেলতে পারেন, এতে ইট-পাথরের দালানে একটুকরো নৈসর্গের অনুভূতি আসবে।

ডাইনিংয়ে কৃত্রিমতা নয়

ডাইনিং ঘরে অনেকেই কৃত্রিম প্লাস্টিকের ফুলদানি রেখে দেয়, কেউ ডাইনিং টেবিলের উপরেও রাখে কৃত্রিম ফুলের তোড়া কিংবা শোপিস। এসবের দারুণ প্রতিস্থাপক হলো একটি চমৎকার হাউজপ্ল্যান্ট। ডাইনিং ঘরের দেয়ালগুলোর মাঝামাঝি, কিংবা বসার স্থানকে বেষ্টন করে ছোট ছোট হাউজপ্ল্যান্ট স্থাপন করলে খাওয়াদাওয়ার সময়ে গুমোট ভাবটা কেটে যাবে। ডাইনিং টেবিলের উপর ছোট একটি বনসাই নিয়ে আসতে পারে বিশেষত্ব।

আকার নিয়ে ভাবনা নয়

হাউজপ্লান্টের ক্ষেত্রে অনেকেই মনে করে আকারে ছোট ছোট উদ্ভিদই একমাত্র বিকল্প। কিন্তু আধুনিক গৃহসজ্জার ট্রেন্ড বলছে উল্টো। আকার বড় হলে কোনো ঝামেলা নেই, বরং সৌন্দর্যই বাড়বে বেশি। পাম, রাবার, বেহালা পাতা ডুমুরের মতো বড় আকারের বৃক্ষজাতীয় উদ্ভিদও আপনার ঘরে স্থান পেতে পারে। বিশেষ করে বসার ঘরে সোফার পাশে কিংবা ওপেন কিচেন ব্যবস্থায় এরকম বড় বড় উদ্ভিদগুলো বেশ মানানসই।

তবে খেয়াল রাখতে হবে, শুরুতেই মাঝারি বা মোটামুটি বড় আকারের উদ্ভিদ নিয়ে আসলে পরে তার আকার নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হতে পারে। তাই শুরুতে ছোট আকারের গাছ আনুন, সেগুলোকে সময় নিয়ে পরিচর্যা করে বড় করুন, এবং নিজের পছন্দসই আকারে সীমাবদ্ধ রাখুন।

ওয়ার্কস্পেসে বিশেষ নজর আবশ্যক

ঘর সাজাবেন হাউজপ্ল্যান্ট দিয়ে আর নিজের ওয়ার্কস্পেসকে বিশেষ গুরুত্ব দেবেন না, তা হয় না। কোভিড-১৯ প্যান্ডেমিকের সময়ে যখন ‘হোম-অফিস’ ব্যাপারটি প্রায় স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে, তখন প্রতিটি চাকরিজীবীর বাসায়ই অফিসের কাজ করবার জন্য থাকে নিজস্ব একটি ওয়ার্কস্টেশন।

যে স্থানে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা কাজ করতে হয়, যোগ দিতে হয় মিটিংয়ে, সে স্থানটা সবুজ হলে কাজের ফাঁকে ফাঁকে হাঁপ ছাড়া যাবে কিছুটা, পাওয়া যাবে সজীব নিঃশ্বাস। তাই ওয়ার্কস্টেশনের হাউজপ্ল্যান্টগুলো হবে ছোট ছোট, ঝরঝরে, আর ভীষণ সবুজ। ড্রেসিনা (Dracaena) এক্ষেত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম। উজ্জ্বল সবুজ চিরল চিরল পাতার এই গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ দেখতে কৃষকের ক্ষেতে নবীন ধানগাছের মতো মনে হয়।

ড্রেসিনার মতো, তবে অতটা ঘন নয় এবং পাতাগুলো অধিক সরু, এ উদ্ভিদটি হলো স্পাইডার প্ল্যান্ট। এর পাতাগুলো চারধারে ছড়িয়ে পরে থাকে, লম্বা লম্বা সবুজ ঘাসের একটুকরো আবরণ মনে হয়। এ দুটোর পাশাপাশি সোনালি পথস লতা (Golden Pothos Vine) রেখে দিতে পারেন ওয়ার্কস্টেশনের মাঝামাঝি, কিংবা উপর থেকে ঝুলিয়েও দেয়া যায়।

শাওয়ার প্লান্টে নজর দিন

ঘরের সাজসজ্জায় যে হাউজপ্ল্যান্টগুলো ব্যবহার করছেন, গোসলখানায় সেগুলো মোটেই মানানসই হবে না। গোসলখানার জন্য আলাদা কিছু শাওয়ারপ্লান্টের ব্যবস্থা করুন, যদি গোসলখানায় বাথটাব থাকে, তাহলে তো কথাই নেই। প্রথমেই নিয়ে নিন মথ অর্কিড (Moth Orchid) যা ভেজা বা আর্দ্র স্থানে বৃদ্ধি পায়। এর বেগুনি রঙের ফুলের আছে চমৎকার সৌরভ। এর সাথে থাকুক ঘরের ভেতরে রাখা ড্রেসিনার শাওয়ার উপযোগী দুই প্রজাতি- লাকি ব্যাম্বো (Dracaena sanderiana) আর ড্রাগন ট্রি (Dracaena marginata)।

গোল্ডেন পথসেরও একটা পদ (Epipremnum aureum) ঝুলিয়ে দিতে পারেন উপর থেকে। যদি আদৌ এগুলোর পরও আরো বৈচিত্র্যের সন্ধান থাকে, তাহলে এনে ফেলতে পারেন পিস লিলি (Peace Lily) আর বোস্টন ফার্ন (Boston Fern)। এ দুটোর সমন্বয়ে গোসখানার বাথটাবখানি মনে হবে কোনো প্রাকৃতিক পরিবেশে স্নিগ্ধ সবুজ এক জলাধার।

শেলফ যেন বাদ না যায়

ঘরের সর্বত্রই হাউজপ্ল্যান্ট স্থাপনের দরকার নেই, এতে ঘর কম, জঙ্গল বেশি মনে হবে। কিন্তু ঘরের যেসব জায়গায় হাউজপ্ল্যান্ট না রাখলেই নয়, তার মাঝে একটি হলো শেলফগুলো। সেটা বুকশেলফ কিংবা শোপিস ও অন্যান্য দ্রব্যাদি রাখার শেলফও হতে পারে। শেলফটা হাউজপ্ল্যান্ট দিয়ে সাজানোর মূল শর্ত হলো বড় এবং পর্যাপ্ত স্থান নিয়ে শেলফ তৈরি করা। প্রয়োজনীয় বস্তুগুলো কিংবা বই রাখার ফাঁকে ফাঁকে যেন ছোট ছোট উদ্ভিদ রাখা যায়, সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে শেলফ তৈরির সময়েই, যদি আপনার হাউজপ্ল্যান্ট দিয়ে সাজাবার ইচ্ছা থাকে।

শেলফের জন্য কোনো সন্দেহ ছাড়াই ছোট আকারের লতা-গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ বাছাই করুন, যেগুলো আকারে খুব বেশি বড় হবে না। শুরু করতে পারেন বার্ডস নেস্ট স্নেক প্ল্যান্ট (Birds Nest Snake Plant) দিয়ে। সাথে স্নেক প্লান্টেরই আরেক পদ সামুরাই স্নেক প্ল্যান্ট বেশ মানানসই হবে বুকশেলফের জন্য।

শোপিসের শেলফে একটা টিলানসিয়া (Tillandsia) রাখলে সেটাকেও আরেকটা শোপিসই মনে হবে। ফার্নের দু-তিনটি প্রজাতি, যেমন- মেইডেনহেয়ার (Maidenhair), লেমন বাটন (Lemon Button), বোস্টন (Boston) ইত্যাদি যেকোনো শেলফেরই শোভা বাড়াবে। শেলফে উদ্ভিদের ভিন্নতার পাশাপাশি রঙের ভিন্নতা আনতে সিলভার স্পার্কেল পিলিয়া (Silver Sparkle pilea) তো আছেই। এর হালকা সবুজ থেকে রূপালি সবুজ অন্যান্য সবকিছুর মাঝে নজর কাড়বে।

No comment yet, add your voice below!


Add a Comment

বাড়ি বানাতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য একটি পরিপূর্ণ ওয়েব পোর্টাল- হোম বিল্ডার্স ক্লাব। একটি বাড়ি নির্মাণের পেছনে জড়িয়ে থাকে হাজারও গল্প। তবে বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে পদে পদে নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হই আমরা। এর মূল কারণ হচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়ি তৈরির নিয়ম নীতি সম্পর্কে ধারণার অভাব। সেই অভাব পূরণের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে হোম বিল্ডার্স ক্লাব। আমাদের রয়েছে একদল দক্ষ বিশেষজ্ঞ প্যানেল। এখানে আপনি একটি বাড়ি তৈরির যাবতীয় তথ্য, পরামর্শ ও সাহায্য পাবেন।

© All Rights Reserved by Home Builders Club