বাথরুম ফিটিংসের যাবতীয় ডিটেইল

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

আমাদের দৈনিক কাজ কর্মের মধ্যে সবচেয়ে জরুরি কিছু স্থান সবসময় আমাদের নজরদারির বাইরে থেকে যায়। এমন একটি হল বাথরুম ও টয়লেট। এই বাথরুম বা টয়লেটে আমাদের প্রতিদিন যেতে হয়। নিত্য কর্ম সাধন করার পর আমরা ভুলেই যাই যে, এটা আমাদের প্রতিটি ঘরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ যাকে আমরা অনেকটা অবহেলার মাঝেই রাখি। কিন্তু ঘরের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশ টয়লেট বা বাথরুমকে বেডরুমের পরেই গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিৎ। কেন উচিৎ?

কারণ, এখানে প্রবেশ ও বের হবার মাঝের সময়টুকুতে আমরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হই, নিজেরা নিজেদের শুদ্ধ করি। স্নানের আবহে নিজের ক্লান্তি ভুলে নতুন চনমনে ভাব নিয়ে দিন শুরু বা শেষ করার আয়োজন করি। তাই এই টয়লেট বা বাথরুম যদি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও সাজানো গোছানো না থাকে, তবে এটি থেকেই আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঘাত ঘটা শুরু হয়। ধরুন, বাথরুমের শাওয়ার কাজ করছে না, দিনটাই মাটি হয়ে যাবে! আবার বেসিন দিয়ে পানি যাচ্ছে না, দাঁত ব্রাশ করাও কঠিন হয়ে যাবে! ওয়াটার ক্লোজেট (ইংলিশ কমোড) এর ফ্লাশ কাজ না করলে তো আরো বিচ্ছিরি দশা হবে!  তাই টয়লেট ও বাথরুমের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং এর কার্যকর ব্যবহার করা আমাদের নিত্য কর্তব্যের একটি।

বাথরুম ও টয়লেট- এই দুটো টার্ম এর মাঝে একটা বিরাট গ্যাপ আছে। একটি হল আমাদের স্নান ঘর, আরেকটি হল আমাদের পায়খানা বা হিউম্যান ওয়েস্ট ফেলার জায়গা। কিন্তু ,বাংলাদেশ বা উন্নত বিশ্বের অনেক জায়গাতেই এই দুটি একত্র করে ফেলা হয়েছে। গ্রাম বাংলায় এখনো গোসলখানা ও টয়লেট আলাদা। কিন্তু আধুনিক স্থাপত্যকলায় এই দুটি কাজ একত্র করে ফেলা হয়েছে জায়গা সংকুলান করার নিমিত্তে।

basin

টয়লেটের প্রথম জরুরী যে বিষয়টি, সেটি হল প্রবেশের পরেই যেন ওয়াটার ক্লোজেটটা (ইংলিশ কমোড) চোখে না পড়ে। এটা ঘুরিয়ে ব্যবহার জরুরী। প্রথমেই যেন বেসিনটা চোখে পড়ে। কারণ যারা ঘরের নিয়মিত বাসিন্দা, তাদের কাছে তো সবকিছুই পরিচিত। কিন্তু একজন অপরিচিত ব্যক্তি যদি ঘরের টয়লেটে ঢুকেই ওয়াটার ক্লোজেট দেখতে পান, তাহলে ওনার কাছে এটা অশোভন মনে হতে পারে। এক্ষেত্রে সুন্দর একটা বেসিন থাকলে সেটি ব্যবহার করতে উনি বেশী স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন এটাই স্বাভাবিক। মানব মননে সুন্দরের দ্যোতনা সৃষ্টি করতে লাইটিং এর কোন বিকল্প নেই। তাই সুন্দর লাইট ও সিলিং বিশিষ্ট বেসিন ব্যবহার করলে সেটি অনেক বেশি সুদৃশ্য হবে। বেসিনের নিচে একটা বেসিন ক্যবিনেট থাকলে সেটার ভেতর আপনি প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিস যেমন শেভিং মেশিন বা শেভিং ক্রিমসহ টয়লেট ক্লিনার সবই রাখতে পারবেন।

বেসিন বিভিন্ন রকমের হতে পারে। ইদানীং অনেক ধরণের বেসিন পাওয়া যায়। সেগুলো সিরামিক হতে পারে, আবার কাঁচেরও হতে পারে। বিভিন্ন সাইজের এবং শেইপের হতে পারে। আধুনিক সময়ে বেসিন কেবিনেট ও বেসিন এত বেশি রকমের হতে পারে যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না! কিছু বেসিন আছে সেগুলো পাথর কেটে বানানো হয়। পাথর কাটা বেসিন বাথরুমে এনে দেয় মৌলিক রুপ। আবার অনেক বেসিন আছে পুরো মার্বেল পাথর বা গ্রানাইটের চাঁই কেটে বানানো হয়। সেই বেসিনগুলোও নান্দনিক।

basin tap

বেসিনের পরেই যে বস্তুটি নান্দনিকতায় স্থান দখল করে রাখবে, সেটি হল বেসিন ট্যাপ। এই বেসিন ট্যাপ হতে পারে হাজারো রকম। ব্রাশ মেটাল বা স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি এসব ট্যাপ যেমন সুদৃশ্য, তেমনই সাশ্রয়ী। বিশেষ করে অনেকবছর আগে থেকেই সেন্সরড কিছু ট্যাপ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে যেগুলো হাত দিয়ে বন্ধ করতে হয় না। এর সামনে হাত রাখলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই জল পড়ে ও হাত সরিয়ে নিলে জল বন্ধ হয়ে যায় যা একই সাথে পরিবেশ বান্ধবও বটে।

bathtub

শাওয়ার এর ক্ষেত্রে দু’রকম ব্যবহার দেখা যায়। হয় শাওয়ার ট্রে ব্যবহার করা হয় অথবা বাথটাব। বাথটাব ও শাওয়ার ট্রে যেটাই ব্যবহার করা হোক না কেন, খেয়াল রাখা হয় যেন কোনভাবে বাথটাব বা শাওয়ার ট্রে থেকে পানি বেশি দূরে না আসে। এই ব্যাপারটি খুবই গুরুত্বসহকারে দেখার কারণ হল বাথরুম বা টয়লেট শুকনো থাকলে অনেক বেশি হাইজেনিক থাকে। হাইজিন মেইনটেইন করলে সহজে রোগ জীবাণু ছড়াতে পারে না। এজন্যে ঘরের সবচেয়ে অবহেলিত অংশ টয়লেট অনেকেই পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখেন ফলে রোগজীবাণু সহজেই আক্রমণ করে, টয়লেট সহজেই ময়লা হয়ে যায় যার দরুণ বসতবাড়ির সৌন্দর্য ও এর পরিবেশ সহজেই আক্রান্ত হয়।

বাথরুম ব্যবহারের বেশ কিছু নিয়মকানুন বা টোটকা যা আমাদের সবসময় মেনে চলতে হবে সেগুলো লিপিবদ্ধ করা হলঃ

১. বাথরুমের প্রতিটি ফিটিংস ও টাইলস সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। পাইপে কোন লিকেজ থাকলে দ্রুত সারিয়ে নিতে হবে।

২. ট্যাপ কখনোই খুলে রাখা যাবে না। কোনভাবেই যেন ট্যাপ দিয়ে ফোঁটায় ফোঁটায় পানি ঝরে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৩. অনেকেই বাথরুমে ফ্লোরম্যাট ব্যবহার করেন। এটা খুব জরুরি। বাথরুমকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু এটা যথেষ্ট পরিমাণে ধুলো ও পানি ধরে রাখে। তাই প্রতি মাসে একবার ফ্লোর ম্যাট পরিষ্কার করতে হবে।

৪. বেসিন, কমোড এবং শাওয়ার দিয়ে সাজানো থাকে একটি বাথরুম। তাই শাওয়ারের চারপাশে শাওয়ার কার্টেন ব্যবহার করতে হবে। এতে গোসলের সময় পুরো বাথরুম ভিজে যাবে না।

৫. বাথরুম সবসময় শুকনো রাখতে হবে। পিছলে আহত হবার ভয় থাকবে না।

৬.  ওয়াশিং ব্রাশের ব্রিসল যদি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে এটা ফেলে নিয়ে নতুন একটা কিনে নেয়া উত্তম কারণ নষ্ট ব্রাশ বাথরুমের ফ্লোর ও ম্যাটেরিয়েলস-এ দাগ ফেলে দিবে।

৭. গরম পানি দিয়ে বাথরুম পরিষ্কার করা মোটেও উচিৎ না। এতে বেসিন, কমোড ফেটে যাবে। কারণ এগুলো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বানানো হয়। তাপমাত্রার গরমিল হলেই এদের বডিতে ক্র্যাক পড়ে।

৮.  বাথরুমে একটা ডাস্টবিন রাখা জরুরী। এটি নিয়মিত পরিষ্কার করা উচিৎ।

৯.  বাথরুমের জানালা খোলা রাখুন। বিশেষ করে ভোরের আলো প্রবেশ করতে দিন। দিনের আলো প্রবেশ করলে বাথরুম সব সময় জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা পায়।

১০.  ফ্রেশনার ও ন্যাপথলিন ব্যবহার করা উচিৎ। এটি কটু গন্ধ দূর করে বাথরুমকে সজীব রাখে।

১১.  বাথরুমে অনেকগুলো তোয়ালে রাখা জরুরী। গেস্টদের ব্যবহারের জন্য আলাদা তোয়ালে রাখা আবশ্যক।

১২.  দুই তিন মাস অন্তত একবার গিজার সার্ভিসিং জরুরী। নইলে শীতকালে হঠাৎ করে গিজার নষ্ট হয়ে আপনার ভোগান্তি হবে।

১৩. পানির ট্যাংক ও রিজার্ভার প্রতিমাসে দুইবার পরিষ্কার করা বাধ্যতামূলক। নইলে বাথরুমে ময়লা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

১৪.  বাথরুম ভেজা থাকলে দ্রুত মুছে ফেলা উচিৎ। ভেজা বাথরুমে সহজে জীবাণু আক্রমণ করে।

১৫. বাথরুম ডিজাইনের ক্ষেত্রে অবশ্যই আলো বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা রাখতে হবে। যদি তা করা একেবারেই সম্ভব না হয়, তাহলে  ছোট এগজস্ট ফ্যান লাগিয়ে নিলে দ্রুত দূর্গন্ধমুক্ত হবে বাথরুম।

১৬.  রুম ফ্রেশনার যদিও বদ্ধ যায়গার জন্যে মোটেও ভাল কিছু না তবে বাথরুমে মাঝে মাঝে রুমফ্রেশনার দেয়া যেতে পারে।

১৭.  একটা লন্ড্রি, বাস্কেট ও ওয়েট পেপার বাথরুমে রাখলে তাতে ময়লা জামা-কাপড় ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখা যাবে। বাথরুম অযথা ময়লা হবে না।

১৮.  বাথরুমে পোকামাকড়ের উপদ্রব বেশি হলে ন্যাপথলিন বা নিমপাতা রাখতে পারেন।

১৯. আয়না পরিষ্কার রাখার জন্যে টুথপেস্ট ব্যবহার করতে পারেন। টুথপেস্ট ভাল মত ঘষে আয়না শুকনো কাপড় দিয়ে মুছলে দেখবেন আয়না ঝকঝকে তকতকে।

২০. কমোড একদিন পর পর পরিষ্কার করা উচিৎ।

২১. এগজস্ট ফ্যান ও ময়লা হয়ে যায়। এটি প্রতিমাসে একবার পরিষ্কার করা উচিৎ।

২২. অনেকেই বাথরুমের রঙ পুরো সাদা রাখেন। এক্ষেত্রে দেয়াল ময়লা হবার হার বাড়ে। দেয়ালে নীলচে টাইলস লাগানো যেতে পারে। অনেকেই গোলাপি টাইলসও লাগান। এটাও লাগানো যেতে পারে।

২৩. বাথরুমের ফ্লোরে হোমোজিনিয়াস টাইলস লাগানো উচিৎ। হোমোজিনিয়াস টাইলস অনেকদিন একইরকম থাকে। তাই সহজে বাথরুমের ডিজাইন নষ্ট হয় না।

২৪. বাথরুমে বেসিন ক্যাবিনেট ব্যবহার করলে মেরিন প্লাই ব্যবহার করা উচিৎ। এটি পানিতে নষ্ট হয় না। আর মেরিন প্লাই না পেলে কেরোসিন কাঠ ব্যবহার করা যেতে পারে ক্ষেত্রবিশেষে।

২৫. শাওয়ার ডোর ব্যবহারের চল বাড়ছে। এটি ব্যবহার করলে অবশ্যই কাঁচ বারবার পরিষ্কার করতে হবে। শ্যাওলা যেন না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

 

 

No comment yet, add your voice below!


Add a Comment

বাড়ি বানাতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য একটি পরিপূর্ণ ওয়েব পোর্টাল- হোম বিল্ডার্স ক্লাব। একটি বাড়ি নির্মাণের পেছনে জড়িয়ে থাকে হাজারও গল্প। তবে বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে পদে পদে নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হই আমরা। এর মূল কারণ হচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়ি তৈরির নিয়ম নীতি সম্পর্কে ধারণার অভাব। সেই অভাব পূরণের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে হোম বিল্ডার্স ক্লাব। আমাদের রয়েছে একদল দক্ষ বিশেষজ্ঞ প্যানেল। এখানে আপনি একটি বাড়ি তৈরির যাবতীয় তথ্য, পরামর্শ ও সাহায্য পাবেন।

© 2020 Home Builders Club. All Rights Reserved by Fresh Cement