বাড়ির কাজে হাত দিচ্ছেন: কী পরিকল্পনা দরকার?

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

আমরা মানুষ হিসেবে কেউ যেমন এক নই, বাড়ি নিয়ে আমাদের স্বপ্নগুলোও আলাদা। কিন্তু একইসাথে মনে রাখতে হবে, বাড়ির নকশা শুধু স্বপ্নের বাস্তবায়নই নয়, এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়। কী কী মাথায় রাখতে হবে একটি বাড়ির নকশা করার সময়? আসুন দেখে নিই একনজরে।

আলো-বাতাস

বাংলাদেশের যেকোনো এলাকায় আমরা ধরে নিই যে, দক্ষিণমুখী বাড়ি হলে বাতাস আসবেই। আর সূর্য তো এমনিতেই পূর্ব দিকে উঠে তাই সকালের মিষ্টি রোদ চাইলে দক্ষিণ-পূর্বমূখী ফ্ল্যাটের সন্ধানে আমরা সবাই প্রায় যুদ্ধে নেমে পড়ি। অথচ ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে যেখানে ৩ কাঠার একটি জায়গাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে তিনটি আলাদা বহুতল ভবন, এমনকি ভবনের সামনে ১০ ফিট রাস্তার মতো সুবিধা আপনি না-ও পেতে পারেন, সেখানে এই প্রাগৈতিহাসিক ধারণা নিয়ে বাড়ি করা নির্ঘাত বোকামি।

এজন্য চাই সিমুলেশন, কনটেক্সট এবং আলো ও বাতাসের স্বাস্থ্যকর মাপ সম্পর্কে ধারণা। জানা উচিৎ জানালা কেমন হলে আলো বাতাস বেশি আসবে, বুঝতে হবে ভেন্টিলেশনের নিয়মগুলোও। তবেই স্বাস্থ্যকর আলো বাতাসে আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে উঠবে নিরাপদে!

আসবাববান্ধবতা

অনেকেই ঘরের নকশা আর ঘর সাজানোকে আলাদা দুটি বিষয় মনে করেন এবং ঘর সাজানোর ব্যাপারটি বলতে বোঝেন কিছু আসবাবপত্র কেনাকে। আপনার ঘরের নকশা যদি কোনো আসবাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে সেই ঘরে ওই আসবাব রেখে আপনি ঘরের সকল সুযোগ-সুবিধা কোনভাবেই পাবেন না।

আপনার খাট কোনদিকে মুখ করে থাকবে, কত বড় হবে আপনার ঘরের ক্লজেট? জানালার মাপের সাথে টেবিলের মাপ কীভাবে মিলবে? এসব প্রশ্নের উত্তর থাকতে হবে আপনার ঘরের নকশাতেই। মনে রাখবেন, একটি ঘর মানে শুধু চার দেয়ালের একটি বাক্স নয়, এটি আপনার প্রতিদিনের জীবনের শুরু এবং শেষ। তাই ঘরের আসবাব-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভবনের নকশা করবার সময়েই যত্নবান হতে হবে।

ঘরের মনস্তত্ত্ব

অনেকেই চান, তার কিনে নেওয়া জমির সম্পূর্ণটা জুড়েই তৈরি হোক বাড়ি। নষ্ট না হোক এক স্কয়ার ফুট জায়গাও। সারাজীবনের সঞ্চিত অর্থে করা বাড়িতে এই চাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।

কিন্তু মনে রাখতে হবে, মানুষের ঘর মানুষের মানসিক শান্তির জায়গা। পুরো জায়গা জুড়ে ঘর করলে আইন ভঙ্গের পাশাপাশি মানসিক অশান্তির আখড়া হয়ে উঠতে পারে আপনার স্বপ্নের বাড়ি।

তাই পরিকল্পনা করতে বসে ভাবতে হবে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে ছোট-বড় সকল চাহিদার কথা। তাতে শুধু বসবাসই সুন্দর হবে না, বাঁচবে খরচও। যেমন, ছোট ফ্ল্যাটে অনেকেই এখন সার্ভেন্ট টয়লেটকে ব্যবহার করেন স্টোর রুম হিসাবে। নকশার সময়ই স্থপতিকে এ ব্যাপারে অবগত করলে অতিরিক্ত ওয়াটার ক্লজেট বা পানির লাইনে অতিরিক্ত সামগ্রী ব্যবহারের খরচ বেঁচে যেতে পারত। এছাড়া কোন ঘরের পাশে কোন ঘর হবে, কার সাথে কার যোগাযোগ কতটা জরুরি এ ব্যাপারে দরকার পেশাদার নকশাবিদের সাহায্য।

সাধ সাধ্যের সামঞ্জস্যতা

একটি বাড়ি তৈরির পেছনে সবারই একটি গল্প থাকে। অনেক পরিশ্রম করে মানুষ ঘর তৈরির টাকা জমান। অথচ যথেষ্ট পূর্বপরিকল্পনার অভাবে বা বাজার সম্পর্কে সম্যক ধারণা না থাকার ফলে অনেক সময়েই পছন্দমতো ঘরের হিসেব মিলে না।

রডের দাম আপনার ধারণার চেয়ে বেশি হলে কি আপনি আপনার পছন্দমতো টাইলস দেবেন না? অথবা, বাজেট শেষ হয়ে গেলে কি থাকতে শুরু করবেন অস্বাস্থ্যকর রংবিহীন বাসাতেই? কিংবা বন্ধ হয়ে বহুদিন ঝুলে থাকবে আপনার সাধের বাড়ি? এসব ব্যাপারে চাই পরিকল্পনা ও সমতা।

এজন্য আপনাকে নিতে হবে পেশাদার স্থপতি, প্রকৌশলী এবং দক্ষ ঠিকাদারের সাহায্য। আর যদি ডেভেলাপারের শরণাপন্ন হন, তিনি আপনার হয়ে এই পেশাদার সাহায্য গ্রহণ করবেন। তাই অভিজ্ঞ, বন্ধুসুলভ ও সফল ডেভেলপারের শরণাপন্ন হোন। এই পেশাদার সাহায্যের পিছনে বিনিয়োগ আপনার খরচ তো বাড়াবেই না বরং উপরে উল্লিখিত প্রতিটি বিষয়ে সাহায্য করবে প্রতিনিয়ত।

3 Comments

  1. আমার ৪.৫ শতাংশ জমি আছ। আমি একটি বাসা বানাতে চাই। আমাকে এ ব্যাপারে আপনাদের সাহায্য চাই।

    • Home Builders Club

      বাড়ির নকশার জন্য কোন ইঞ্জিনিয়ার বা স্থপতির সাথে আপনাকে কথা বলতে হবে। তবে আপনি চাইলে আমরা ইঞ্জিনিয়ার বা স্থপতির নাম্বার দিয়ে সহযোগিতা করতে পারি।


Add a Comment

বাড়ি বানাতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য একটি পরিপূর্ণ ওয়েব পোর্টাল- হোম বিল্ডার্স ক্লাব। একটি বাড়ি নির্মাণের পেছনে জড়িয়ে থাকে হাজারও গল্প। তবে বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে পদে পদে নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হই আমরা। এর মূল কারণ হচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়ি তৈরির নিয়ম নীতি সম্পর্কে ধারণার অভাব। সেই অভাব পূরণের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে হোম বিল্ডার্স ক্লাব। আমাদের রয়েছে একদল দক্ষ বিশেষজ্ঞ প্যানেল। এখানে আপনি একটি বাড়ি তৈরির যাবতীয় তথ্য, পরামর্শ ও সাহায্য পাবেন।

© 2020 Home Builders Club. All Rights Reserved by Fresh Cement