কলাম বীম স্ট্রাকচার: আপনার বাড়ির ভার নিচ্ছে যারা

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

স্বপ্নের বাড়ি, উঁচু দালান কিংবা যেকোনো কাঠামোকে সোজা, স্থিতিশীল করে সুরক্ষিত রাখতে, মাথার উপর ছাদকে সু-উন্নত রাখতে ঘরের খুঁটি, কড়িকাঠ অথবা ইংরেজিতে যাকে কলাম-বীম বলে, তার সাথে আমরা সবাই পরিচিত।

ঐতিহাসিক কাল থেকে সভ্যতার উচ্চতার জন্য এর ব্যবহার চলে আসছে, যা হয়ে উঠেছে আমাদের স্বপ্নের বসতবাড়ির অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ। আসুন আজ আমরা জেনে নিই কলাম-বীম স্ট্রাকচার কী, কীভাবে এর উৎপত্তি হলো এবং কেন আপনার বাড়িতে এর প্রয়োজন।

কলাম-বীম স্ট্রাকচার কী?

একটি দালানের ভার নিতে কলাম-বীম স্ট্রাকচার সবচেয়ে পরিচিত এবং সর্বাধিক ব্যবহৃত নির্মাণ পদ্ধতি। সাধারণত, নির্দিষ্ট পরিমাপে ভার পরিবহন করার জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। উপরের তলা থেকে ভার মাটিতে পরিবহন করে নিয়ে যেতে পদ্ধতিটি এভাবে কাজ করে- প্রথমে ভর দুই ভাগ হয়ে বীম দিয়ে কলামে পৌঁছায়। সেই প্রাপ্ত কম ভর/ওজন প্রথমে নিচের কলামে এবং এর পরে ফাউন্ডেশনের ফুটিংয়ের মাধ্যমে মাটিতে পৌঁছায়। এতে করে দালান সুরক্ষিত থাকে এবং অতিরিক্ত ভারে হেলে পড়া বা ধ্বসে পড়ার সম্ভাবনা থাকে না।

প্রয়োজন অনুসারে, কলাম-বীমের প্রকার বিভিন্ন রকম হতে পারে, প্রয়োজনীয় স্প্যান অনুসারে সেটি দালানের সৌন্দর্য ও দরকার অনুসারে নির্ধারিত হবে। সাধারণত নির্দিষ্ট দূরত্ব পরে পরে নির্দিষ্ট মাপের কলাম দেওয়া হয় যেটির মাপ উপাদানের উপর নির্ভর করে। এই দূরত্বের সাথে হিসেব অনুসারে সুনির্দিষ্ট চওড়ার বীম স্ল্যাবের সাথে সাথেই বানাতে হয় নির্মাণের সময়।

আবিষ্কার এবং ব্যবহার

মানুষ স্বভাবতই একঘেঁয়েমি অপছন্দ করে। স্বাভাবিকভাবেই নির্মাণের অংশ হিসেবে কলাম, বীমের নীতি এবং নকশায় এসেছে নতুনত্ব, মানুষ বের করতে পেরেছে অনেক অভিনব পন্থা। প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায় প্রাথমিকভাবে গাছের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি হতো বড় বড় কলাম, যেগুলো ছাদের ভার নিতে পারত। পরবর্তীতে পাথর ব্যবহার করে আরো শক্ত মজবুত কলাম বানানো শুরু করা হয়। এর ফলে স্ট্রাকচার হয়ে উঠে আরও মজবুত ও অভিজাত।

এরপরে এই সভ্যতার পরে অন্য সভ্যতাগুলোতে কলাম এবং বীমের সুস্পষ্ট বিবর্তন লক্ষ্যণীয়। এর পরে প্রাচীন গ্রীক, রোমান সভ্যতার কলামযুক্ত স্পেসগুলো প্রমাণ বহন করে কলাম-বীমের মাহাত্ম্য। তখনও অবশ্য মূলত পাথর ছিল শক্ত এবং মজবুত কলামের মূল উপকরণ।

এর উপকরণ বাছাই হতো মূলত অঞ্চলভেদে প্রাপ্ত বিভিন্ন কিছু থেকে। যেমন- এই কাজে অঞ্চলভেদে এখনও কাঠ, বাঁশ, লোহা কিংবা ইটের ব্যবহার বহুল প্রচলিত। ইউরোপীয় সভ্যতার ক্রমাগত উন্নতি এবং শিল্প বিপ্লবের সাথে সাথে লোহার ব্যবহার ও কারখানায় প্রস্তুতকৃত বস্তুর চাহিদা বাড়তে শুরু করে।

মানুষ আরো অধিক শক্তিশালী কলামের আবিষ্কারের জন্য মেধা ও শ্রম নিয়োগ করে। আবিষ্কার হয় সিমেন্ট ও রডের। মানুষ এই দুটো উপকরণ দিয়ে তার অবাস্তব স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে শুরু করে। তৈরি করতে শুরু করে সুউচ্চ দালানকোঠা, ইমারত। এরপরে কলাম-বীমের বিভিন্ন রকমফের উদ্ভাবিত হয় ব্যবহার ও প্রয়োজনমাফিক।

আপনার বাড়ির জন্য উপযুক্ত কলাম-বীম কোনটি?

সাধারণত, আপনার বাড়ির জন্য উপযুক্ত কলাম-বীম বেশ কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে।

প্রথমত, স্ট্রাকচারাল শক্তি, ভার বহনের ক্ষমতা সুনিশ্চিত করতে সঠিক মাপের এবং আকৃতির কলাম ও বীম। এর মধ্যে কতটা রড লাগবে, কত দূর পরপর কলাম বসবে এসবের হিসাব ঠিক করবেন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার।

কলাম বা বীমের আকৃতি, এর ফিনিশিং ও কীসে তৈরি হবে এসব বিষয়ে উপযুক্ত দিকনির্দেশনা স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারের সাথে সাথে স্থপতিকেও নিতে হয়। রুমের ব্যবহারযোগ্য স্পেস যাতে নষ্ট না হয় এবং আপনার স্বপ্নের দালান যাতে মজবুত ও টেকসই হয়, এজন্য ভালো নকশা নির্ধারণ করা একান্ত আবশ্যক। এর জন্য আপনাকে সাহায্য নিতে হবে উপযুক্ত ও পেশাদার স্থপতি ও প্রকৌশলীদের।

No comment yet, add your voice below!


Add a Comment

বাড়ি বানাতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য একটি পরিপূর্ণ ওয়েব পোর্টাল- হোম বিল্ডার্স ক্লাব। একটি বাড়ি নির্মাণের পেছনে জড়িয়ে থাকে হাজারও গল্প। তবে বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে পদে পদে নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হই আমরা। এর মূল কারণ হচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়ি তৈরির নিয়ম নীতি সম্পর্কে ধারণার অভাব। সেই অভাব পূরণের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে হোম বিল্ডার্স ক্লাব। আমাদের রয়েছে একদল দক্ষ বিশেষজ্ঞ প্যানেল। এখানে আপনি একটি বাড়ি তৈরির যাবতীয় তথ্য, পরামর্শ ও সাহায্য পাবেন।

© All Rights Reserved by Home Builders Club