স্পেসটা কমন, বিনোদনও

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

বাসার কিছু স্পেস অব্যবহৃত থেকে যায়। যেমনঃ বাসার করিডোর, সিঁড়িঘর, ছাদের খোলা জায়গা ইত্যাদি। একটু কৌশল খাটালেই এই জায়গাগুলোকে পরিণত করা যায় পরিবারের সবার জন্য বিনোদনের স্থানে। অতিথি আসলেও বসতে দেওয়ার  জায়গা নিয়ে আলাদা করে ভাবতে হয় না। আবার এসব স্থান ব্যবহারের কারণে পরিবেশেও ভিন্নতা আসে। ফলে আপ্যায়নের আনন্দ বেড়ে যায় বহুগুণ।

আধুনিক বাসা-বাড়িতে জায়গা কম থাকে। ফলে বিনোদনকেন্দ্র বানাবার জন্য যথেষ্ট জায়গা করে নেওয়া লাগে। কিভাবে সেটা করবেন, চলুন জেনে নেই –

করিডোর

পরিবারের সবার আসা-যাওয়ায় মুখরিত থাকে এই জায়গাটি। তাই প্রিয় স্মৃতিগুলো সাজিয়ে একে করা যেতে পারে এক মধুর স্থান। সন্তানদের ছোটবেলার ছবি, নিজের বিয়ের ছবি, মা-বাবার স্মৃতি, ছাত্রজীবনের মুহূর্ত, কোন বিশেষ দিন এবং অনুষ্ঠান ইত্যাদির ছবি ফ্রেমে বাঁধাই করে ঝুলিয়ে দিতে পারেন করিডোরের দেয়ালে। মার্কেটের পাশাপাশি বিভিন্ন অনলাইন শপে পাওয়া যায় কাস্টমাইজড ফটো ফ্রেম। এছাড়া অনেকে নিজের হাতেও তৈরি করেন সুন্দর সব ফ্রেম।

এর সাথে যুক্ত হতে পারে বড় সাইজের ফুলের টব আর নানা ধরণের শো-পিস। অনেকে শৌখিনতা করে ল্যাম্প শেড ও স্থাপন করেন করিডোরে।

আলো-আঁধারির খেলায় এক মন মাতানো পরিবেশ তৈরি হয় সেখানে। আবার অনেকে কুশন দিয়ে একটুখানি বসার জায়গাও করে ফেলেন করিডোরে। ফলে এখানে বসেই হয়ে যায় পারিবারিক আড্ডা। পারস্পারিক সম্পর্কগুলো ফিরে পায় উষ্ণতা। তবে খেয়াল রাখা উচিত ,করিডোরে যেন একসাথে অনেককিছু না রাখা হয়। তাহলে হিজিবিজি দেখা যাবে এবং সৌন্দর্য  নষ্ট হবে। দেয়ালের রঙের ক্ষেত্রে ও হওয়া উচিত সতর্ক। কারণ কিছু আলো চোখের জন্য আরামদায়ক। যেমনঃ অফ-হোয়াইট, আকাশী নীল, সাদা ইত্যাদি। গোলাপী, সবুজ এ ধরণের রঙগুলো এড়িয়ে যাওয়া উচিত। এগুলো আলো শোষণ করে নেয়। ফলে করিডোর অন্ধকারাচ্ছন্ন দেখায়। দেয়ালে আয়না বসালে করিডোরের আকার বড় বলে মনে হয়। ফলে খোলামেলা লাগে আগের চেয়ে।

সিঁড়িঘর

আজকাল বেশিরভাগ বাসায় লিফট থাকে। তবুও স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য অনেকেই সিঁড়ি ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। পাশাপাশি, পুরনো বাসাগুলোতে এখনও সিঁড়ির প্রচলনই রয়েছে।

দ্রুত ওঠানামার কারণে সিঁড়িঘরের দিকে আমাদের মনযোগ না থাকলেও একটু ডেকোরেশন একে দিতে পারে এক নতুন রূপ। দেয়ালে লাগাতে পারেন ছোট ছোট ফুলের টব। সিঁড়ির ল্যান্ডিং-এ রাখতে পারেন বড় আকারের টব। দরজার সামনে রাখতে পারেন সুন্দর নকশী কার্পেট। তবে একে ঝেড়েমুছে রাখা জরুরী। তা নাহলে ধুলোর ভোগান্তি বাড়বে সবার। এখানেও ব্যবহার করতে পারেন বিভিন্ন ধরণের ল্যাম্পশেড। তাতে আলোকিত পথে সবার যাতায়াতেও সুবিধা হবে আর চেহারায় আসবে নান্দনিকতা। এখানেও ব্যবহার করতে পারেন বড় অথবা লম্বা একটি আয়না। ফলে সিঁড়িঘর স্বাভাবিকভবে চাপা হলেও আয়নার কারণে বড় দেখাবে।

ছাদের খোলা জায়গা

ব্যস্ত এই শহরে বেড়াতে যাবার জায়গা নেই সেভাবে। বাসার ছাদ সে হিসেবে একটি দারুণ জায়গা হতে পারে অবসর সময় কাটানোর জন্য। ছাদে শামিয়ানা টানিয়ে দিয়ে তৈরি করতে পারেন রৌদ্রের দিনে একটুখানি আশ্রয়। বাদলা দিনেও এটি আপনাকে না ভিজেই বৃষ্টি দেখার আনন্দ দিবে। ছাদে বাগান করা আজকাল বেশ জনপ্রিয়। নানা ধরণের ছোট বড় গাছের টব রাখতে পারেন। তাতে করে বিশুদ্ধ বাতাসও পাবেন।

কিছু আরামদায়ক চেয়ার আর একটি টেবিল রেখে দিতে পারেন এক কোণে। পরিবার-পরিজন আর অতিথিদের নিয়ে বসতে পারবেন আড্ডা দিতে পারবেন। আবার একলা সময়ে সেখানে বসে বইও পড়তে পারবেন। শিশুরা আজকাল খেলাধুলার জন্য মাঠ পায় না। তারাও এখানে খেলাধুলা করতে পারবে। এতে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটবে। তবে ছাদের প্রাচীর এক্ষেত্রে নিরাপদজনক উচ্চতার হওয়া বাঞ্ছনীয় ।

একটুখানি কৌশল আর নিজের ঘরের স্পেসগুলোকে ঠিকঠাকভাবে বুঝে নিলেই তৈরি করা যায় সুন্দর সুন্দর বিনোদনের জায়গা। আমাদের বাসাটি হোক আমাদের মনের মতো।

 

1 Comment


Add a Comment

বাড়ি বানাতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য একটি পরিপূর্ণ ওয়েব পোর্টাল- হোম বিল্ডার্স ক্লাব। একটি বাড়ি নির্মাণের পেছনে জড়িয়ে থাকে হাজারও গল্প। তবে বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে পদে পদে নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হই আমরা। এর মূল কারণ হচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়ি তৈরির নিয়ম নীতি সম্পর্কে ধারণার অভাব। সেই অভাব পূরণের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে হোম বিল্ডার্স ক্লাব। আমাদের রয়েছে একদল দক্ষ বিশেষজ্ঞ প্যানেল। এখানে আপনি একটি বাড়ি তৈরির যাবতীয় তথ্য, পরামর্শ ও সাহায্য পাবেন।

© 2020 Home Builders Club. All Rights Reserved by Fresh Cement