বাড়িতে গ্যাস সরবরাহের খুঁটিনাটি

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

আবাসিক এলাকাগুলোতে গ্যাসের লাইন থাকাটা থাকে সবারই চাহিদার শীর্ষে। বিশেষ করে খাদ্য প্রস্তুতকরণ বা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থার জন্য গ্যাসের সংযোগ থাকা খুব জরুরি। গ্যাস সরবরাহের খুঁটিনাটি নিয়ে জেনে নেয়া যাক আজকের লেখায়।

বাংলাদেশে একচ্ছত্রভাবে গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা সরকার করে থাকে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মাধ্যমে, যা পেট্রোবাংলার একটি কোম্পানি। যেসব এলাকায় গ্যাস সংযোগ আছে, সেখানে জেনারেল লাইন দিয়ে গ্যাস ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

আজকাল অবশ্য জ্বালানির ব্যবহারে মিটারের ব্যবস্থা করা হয়েছে অনেক এলাকাতেই। এই মিটার ব্যবহারের ফলে গ্রাহক নিজেই নিজেদের গ্যাসের ব্যবহারের পরিমাণ, অবশিষ্ট ইউনিট এসব হিসাবে রাখতে পারে। তাই মিটার ব্যবহারে আগের তুলনায় গ্যাসের অপচয় কমে গেছে অনেকাংশেই। গ্রাহকেরা নিজেই কার্ডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ইউনিট টাকা রিচার্জের মাধ্যমে কিনে নিতে পারছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের সাথে সাথে তাই খরচের সাশ্রয় ঘটছে।  

 

নতুন বাসায় লাইন নিতে হলে করণীয়

সংযোগ গ্রহণের জন্য প্রস্তাবিত আঙিনার সামনে বিতরণ লাইন বিদ্যমান থাকলে নিন্মোক্ত ক্ষেত্রে সংযোগ প্রদান করা হয়-

  • একই হোল্ডিংয়ে একক মালিকানাধীন বাড়ির ক্ষেত্রে একক এবং পৃথক রাইজারের মাধ্যমে সংযোগ।
  • একই হোল্ডিংয়ে স্বতন্ত্র মালিকানাধীন ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে আলাদা সার্ভিস রাইজারে হেডারের মাধ্যমে সংযোগ।
  • সিংগেল ও ডাবল বার্নার ব্যতীত অন্যান্য সরঞ্জামসহ অব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে যৌথ রান্নাঘরের জন্য মিটারের মাধ্যমে সংযোগ।

একই হোল্ডিংয়ে একক মালিকানাধীন আবাসিক ও বাণিজ্যিক সংযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে

মিটারবিহীন আবাসিক গ্রাহকসহ বাণিজ্যিক গ্রাহকের ক্ষেত্রে একটি মিটারের মাধ্যমে সংযোগ প্রদান করা হবে। আবাসিক গ্রাহকদের বিপরীতে ফ্ল্যাট রেটের ভিত্তিতে নির্ধারিত গ্যাসের পরিমাণ মিটারের মাধ্যমে ব্যবহত মোট পরিমাণ থেকে বাদ দিয়ে অবশিষ্ট অংশের জন্য বাণিজ্যিক হারে বিল করা হবে।

মিটারযুক্ত আবাসিক গ্রাহক একই আঙিনায় বাণিজ্যিক সংযোগের আবেদন জানালে সেক্ষেত্রে পৃথক মিটারের ব্যবস্থা করা হবে।

আবেদনপত্র সংগ্রহের পদ্ধতি

নির্ধারিত ব্যাংক বা কোম্পানির হিসেব শাখায় নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে আবেদন পত্র সংগ্রহ করা যাবে।

কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কার্যালয় বা গ্রাহক সেবা বুথ বা ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টার অথবা কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে আবেদন পত্র সংগ্রহ করা যাবে।

বিনামূল্যে সংগৃহীত আবেদনপত্র জমা প্রদানকালে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে।

আবেদনপত্র জমাদান পদ্ধতি

সংগৃহীত আবেদনপত্র যথাযথভাবে পূরণ করে নিম্ন বর্ণিত কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট জোন অফিসে জমা দিতে হবে-

সংশ্লিষ্ট জোন বা আঞ্চলিক অফিসে অবস্থিত গ্রাহক সেবা বুথ বা ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবেদন পত্রের সাথে সংযোজিত সকল কাজগপত্র চেকলিস্টের মাধ্যমে আবেদনপত্র গ্রহণ করে একটি ক্রমিক নম্বর সম্বলিত প্রাপ্তি স্বীকারপত্র আবেদনকারী হস্তান্তর করবেন। আবেদনপত্রের সাথে প্রদত্ত কাগজপত্রের ঘাটতি থাকলে তা আবেদনকারীকে লিখিতভাবে জানানো হবে। আবেদনপত্র প্রাপ্তির ৫ কার্যদিবসের মধ্যে কোম্পানির প্রতিনিধি কর্তৃক জরিপ কাজ সম্পন্ন করা হবে।

সংযোগ কার্যক্রম অনুমোদন অথবা সংযোগ প্রদান সম্ভব না হলে সাত কার্যদিবসের মধ্যে গ্রাহককে লিখিতভাবে জানানো হবে।

সংশ্লিষ্ট কার্যালয় নির্ধারিত সংযোগ ফি এবং জামানত বাবদ অর্থ প্রদান সংক্রান্ত চাহিদাপত্র পরবর্তী তিন কার্যদিবসের মধ্যে গ্রাহককে প্রদান করবে। বর্তমান নিয়মে বিভিন্ন হারে জামানত নির্ধারিত করা হয়। জমির মালিক নিজে গ্যাস সংযোগ নিলে তিন মাসের মাসিক সমতুল্য গ্যাস বিল, ভাড়াটিয়ার ক্ষেত্রে ৬ মাসের মাসিক সমতুল্য গ্যাস বিল এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ১ বছরের মাসিক সমতুল্য গ্যাস বিল।

আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের ২ কপি সত্যায়িত সাদা-কালো বা রঙিন ছবির সাথে জমির মালিকানার দালিলিক প্রমাণ হিসেবে দলিল বা হোল্ডিং নম্বার বা পচরা অথবা হালনাগাদ পরিশোধকৃত খাজনার রশিদ (যেকোনো একটি) দিতে হয়।

ভাড়াটিয়া হলে মালিকের সম্মতিপত্র এবং অন্যান্য বাসিন্দার (লিজ গ্রহীতা ইত্যাদি) ক্ষেত্রে নিয়মিত মাসিক গ্যাস বিল পরিশোধের অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হয়।

দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত ক্রমশ কমে যাওয়ায় বাসা-বাড়িতে গ্যাস সেবা পাওয়া দিন দিন জটিল ও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে যারা প্রাকৃতিক গ্যাস সেবার আওতায় আছেন, তাদের অনেকের বাসাতেই সবসময় পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যায় না। এছাড়া কিছু বাসা-বাড়িতে নির্দিষ্ট সময় ছাড়া গ্যাস থাকে না। এর ফলে অনেকে প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগের পাশাপাশি এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করে থাকেন। স্মার্ট জ্বালানির জন্য দিন দিনই এসব সিলিন্ডারের ব্যবহার বাড়ছে। পাশাপাশি সিলিন্ডার বিস্ফোরণ দুর্ঘটনার খবরও পাওয়া যাচ্ছে।

গ্যাস সিলিন্ডার নেওয়ার সময় যা যা করতে হবে তা হচ্ছে:

  • ডেলিভারি নেওয়ার সময় অবশ্যই সিলিন্ডারের মেয়াদ দেখে নেওয়া উচিৎ।
  • প্রতিষ্ঠানের সিল ও সেফটি ক্যাপ সিলিন্ডারে ঠিকভাবে লাগানো আছে কিনা পরীক্ষা করে নিতে হবে।
  • সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিক করছে কিনা পরীক্ষা করে নিতে হবে।
  • মনে রাখতে হবে যেন সিলিন্ডার টানা, গড়ানো, ঘষা বা ফেলা না হয়।

সরকারি গ্যাস লাইনের সংযোগ বা সিলিন্ডার ব্যবহার যেটাই করা হোক না কেন, সবসময় মনে রাখতে হবে, নিরাপত্তা সবার আগে। গ্যাসের সাথে সম্পর্কিত হলো পরিবারের সবার নিরাপত্তা। আপনার স্বপ্নের বাড়ি হোক সবার জন্য নিরাপদ।

No comment yet, add your voice below!


Add a Comment

বাড়ি বানাতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য একটি পরিপূর্ণ ওয়েব পোর্টাল- হোম বিল্ডার্স ক্লাব। একটি বাড়ি নির্মাণের পেছনে জড়িয়ে থাকে হাজারও গল্প। তবে বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে পদে পদে নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হই আমরা। এর মূল কারণ হচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়ি তৈরির নিয়ম নীতি সম্পর্কে ধারণার অভাব। সেই অভাব পূরণের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে হোম বিল্ডার্স ক্লাব। আমাদের রয়েছে একদল দক্ষ বিশেষজ্ঞ প্যানেল। এখানে আপনি একটি বাড়ি তৈরির যাবতীয় তথ্য, পরামর্শ ও সাহায্য পাবেন।

© 2020 Home Builders Club. All Rights Reserved by Fresh Cement