জেনে নিন কেমন হবে ঘরের রঙ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
home color

মানুষ মাত্রই রঙের প্রতি দুর্বল! পৃথিবীর আর কোন প্রাণীই মানুষের মতো রঙের প্রতি এতটা দুর্বল নয়। এর কারণ হতে পারে এই যে, মানুষই একমাত্র জীব যার মেধায় ও মননে রঙের প্রভাব রয়েছে। বাকিদের কথা জানা যায়নি কয়েকটি প্রাণী ব্যতীত। তবে মানুষ একেবারেই আলাদা। মানুষ রঙ দেখলে প্রফুল্ল হয়। রঙের প্রভাবে মানুষ রাগান্বিত হয়। আর তাই মানবজাতির ওপর রঙের রয়েছে বিশেষ প্রভাব। আর আজকের আয়োজন এই রঙ নিয়েই।

একেবারে গোড়া থেকে শুরু করি তবে।

বাসায় রঙ কেন করবেন?

আপনার বাসায় একটা রঙ দেয়া মানে বাসার মাঝে একটা আলাদা ভাব তৈরি করা। ধরুন আপনার ঘরে কোন দেয়ালে কোন রঙ নেই। এই রঙ না থাকাটাও একটা ফ্যাশন। তবে সেই রঙ না থাকাটারও একটা রঙ আছে। যেমনঃ কেউ কেউ কংক্রিট ফেয়ারফেস ব্যবহার করেন। সেটা হালকা কালচে। আবার কেউ কেউ দেয়ালে রঙের পরিবর্তে বসান ইট। ইটের দেয়াল কিন্তু লাল আভা তৈরি করে যার রঙ খানিকটা কালচে লাল। এর মানেই হল আমরা ঘরে যদি রঙ না ও করি, তবুও ঘরে একটা রঙ এমনিতেই তৈরি হয়ে যায়! তাই আমরা মোটেও রঙহীন থাকতে পারি না। আমাদের অবশ্যই একটা না একটা রঙ বেছে নিতেই হয়। একেবারেই কোন রঙ পছন্দ না হলে আমরা সাদাকে বেছে নিই এবং এই সাদা রঙের আছে নানা রকম বিভাজন। মোট কথা, রঙ আপনাকে বেছে নিতেই হবে; তা সাদা হোক বা অন্য যেকোন রঙ।

কীভাবে রঙ করবেন?

রঙ করার প্রথম ধাপ হল দেয়াল বা মেঝে অথবা ছাদ প্রস্তুতকরণ। রঙ যেখানে সেখানে করা যায়; আবার রঙ যেখানে সেখানে করা যায় না। এই কথাটার মানে হল আপনি চাইলেই একটা দেয়াল লাল রঙ করতে পারবেন। কিন্তু চাইলেই সেই দেয়ালের রঙটার মাঝে সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে পারবেন না। তাই রঙ করার ধাপ অবলম্বন করতেই হবে আপনাকে।

এই আস্তরণ রঙের জন্যে সবচেয়ে প্রয়োজনীয়। তাই এই আস্তর হতে হবে একেবারে মসৃণ। রঙের শেষ প্রলেপ প্রথমেই দেয়া হয় না। প্রথমে দেয়া হয় সাদা একটি আস্তরণ। এই আস্তরন দেয়ালের মাঝে কোন ফাঁক থাকলে বা আস্তরের উঁচু নিচু তল সমান করে ফেলে। এরপর দেয়া হয় পুটি। দেয়ালের আস্তর অসমান থাকতে পারে। কোথাও গর্ত থাকতে পারে। সেই সব সমান করার জন্যে পুটি ব্যবহার করা হয় বেশ দক্ষ হাতে। এরপর আরেকটা রঙের কোট দেয়া হয়। এরপর আবার ও চেক করা হয় কোন অসমান বা খুঁত আছে কী না। থাকলে সেগুলো আবারও পুটি দিয়ে সমান করা হয়। এরপর আরেক কোট (coating) রঙ দেয়ার পর সব ঠিক থাকলে শেষ রঙের আস্তরণ দেয়া হয়। এই শেষ রঙটি দেয়ার পর শেষ হয় রঙের কাজ।

কিন্তু শেষ হইয়াও হইল না শেষ!

বর্তমানে বাড়িতে ডুকো পেইন্ট করা হয় যে সব দেয়ালে, সেসব দেয়ালে আরেকটা হার্ডনার দেয়া হয় যাতে রংটা শক্ত হয়ে বসে। হালকা খোঁচাতেও এটি নষ্ট হয় না। তাই যখন স্প্রে পেইন্ট বা ডুকো পেইন্ট করা হয়, তখন কিন্তু নিয়ম একদম আলাদা। আর এই ডুকো পেইন্ট করার সময় প্রথম কোট রঙ দেয়ার আগে প্রাইমার নামে তরল জলীয় অংশ স্প্রে করা হয়। এরপর রঙ করা হয়। পুটি কেটে দেয়াল সোজা করে আবার ও একই রকম স্প্রে করতে থাকতে হয়। সবার শেষে ফিনিশিং কোট দেয়া শেষ হলে হার্ডনার দেয়া হয়। এই ডুকো বেশ দামী রঙ। সাধারণত কেউ দেয়ালে ডুকো করে না। খুব দামী রং বোঝাতে মূলত ডুকোকেই বোঝানো হয়।

ঘরের রঙের ক্ষেত্রে আমরা কীভাবে রঙ নির্বাচন করব?

ঘরের ভেতরের রঙ দুরকম হয় – প্লাস্টিক পেইন্ট ও চুনকাম। চুনকাম এক সময় প্রায় সব বাড়িতেই করা হত। এই রঙ এখন দেখা যায় না বললেই চলে। কারণ হাত দিলেই এই রঙ হাতে উঠে আসে! এবং এটি খুবই স্বল্পস্থায়ী ও কম দামী রঙ। এক্ষেত্রে প্লাস্টিক পেইন্ট অনেক বেশি দিন স্থায়ী একটি রঙ। এটি পানি দিয়ে ধোয়া যায়। পরিষ্কার করা যায় কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে। বাচ্চারা আঁকাআঁকি করলে সহজেই উঠিয়ে ফেলা যায়। সব দিক চিন্তা করে এই রঙ ঘরের জন্য উৎকৃষ্ট।

ঘরের বাইরের জন্যে অবশ্যই দরকার ওয়েদার কোট। ক’দিন পর পর রঙ নষ্ট হয়ে যায় বলেই ওয়েদার কোট ব্যবহার করতে হয়। এটি রোদ বৃষ্টিতে চকচক করে। সঠিক ক্যামিক্যাল ব্যবহার করলে এতে শ্যাওলা পড়ে না। রোদে নষ্ট হয় না। ঘরের ভেতর তাপ প্রবেশেও বাঁধা দেয়।

ঘরের ভেতর কী রঙ করবেন?

বর্তমানে বাজারে অনেক ব্র্যান্ডের রঙ পাওয়া যায়। যেমনঃ বার্জার পেইন্টস, জুটন, এশিয়ান পেইন্টস, রক্সি পেইন্টস, এলিট পেইন্টস, রোমানা পেইন্টস, ইম্পেরিয়াল, পেইলাক পেইন্টস ইত্যাদি। এসব পেইন্টের বেশিরভাগ পেইন্ট প্রসেস একই। এক সময় শুধু ব্রাশ দিয়ে রঙ করা হত। এখন রোলার দিয়ে রঙ করা হয়। প্রায় সব রঙই একই রকম। শুধু কোম্পানিভেদে রঙের প্রকার আলাদা। যেমনঃ সব কোম্পানির প্লাস্টিক পেইন্ট প্রায় একই ভাবেই বানাতে হয় এবং এদের প্রসেস ও একই। শুধু নাম ভিন্ন।  এক্ষেত্রে বাজারে বার্জারের চল বেশি কারণ এর কালার ব্যাংকের মাধ্যমে রং চিহ্নিত করা যায় নিজের ইচ্ছেমতো। দোকানে গেলে হাজার হাজার শেডের মধ্যে নিজের পছন্দের শেড কেনা যায় ইচ্ছেমতো। তাই এটি এখন বেশি প্রচলিত। বাকিগুলোও কম প্রচলিত নয়। এবং প্রায় সকল পেইন্টই বেশ ভাল। বাইরের দেয়ালে তিন থেকে পাঁচ বছর টিকে। ভেতরের দেয়ালে কম হলেও পাঁচ থেকে আট বছর অনায়াসে চলে যায়। তেমন কোন পরিবর্তন হয় না।

কোন ঘরে কেমন রঙ?

এর আগে জানতে হবে শেড ও টিন্ট কী। ধরুন, কোন একটি হলুদ রঙ এর সাথে যদি সাদা মেশাই, তবে রঙটা একটু সাদাটে হবে। যদি নব্বই ভাগ হলুদের সাথে দশ ভাগ সাদা মেশাই, তবে হবে হালকা সাদাটে হলুদ। বিশ ভাগ সাদা মেশালে আরেকটু সাদাটে হবে। এর সাথে কিন্তু পঞ্চাশ ভাগ সাদা মেশানো হলুদের বিস্তর ফারাক থাকবে। এভাবে সাদার দিকে যেকোন মৌলিক রঙ পরিবর্তন করে ফেলাই হল টিন্ট। আর শেড হল ঠিক এর উলটো। যেকোন মৌলিক রঙের সাথে কালো মেশানো হতে থাকলে শেড তৈরি হয়। সোজা বাংলায় কালো মেশানো রঙকে বলা হয় শেড। আবার ডুয়েল কালার মিক্সও হতে পারে। ধরুন, হলুদ আর সবুজ মিশিয়ে কলাপাতা রঙ তৈরি হতে পারে। এক্ষেত্রে সত্তর ভাগ সবুজের সাথে ত্রিশ ভাগ হলুদ মেশানো যায়। আবার হলুদ একটু বেশি মেশালেই কিন্তু সেটা আবার আরেক ধরণের রঙ হয়ে যায়। ওটার সাথে আগের কলাপাতা রঙ মোটেও মেলানো যায় না। একই রকম লাল আর কালো মেশানো রঙ কে বলা হয় মেরুন। ৮০ ভাগ লালের সাথে ২০ ভাগ কালো মেশালেই মেরুনের শেড চলে আসে। আবার সবুজ রঙ বানাতে নীল আর হলুদ মেশালেই হয়। সাদা আর লালের মিশেলে তৈরি হয় গোলাপী। এগুলো ডুয়েল কালার হিসেবেই ব্যবহার হয়।

সাদা রঙ করা বাড়ির ভেতর যদি কোন রঙ আর না থাকে, তবে সেটা যেমন মনোটোনাস দেখায় আবার একেবারে সব কিছু কালো রঙ করা বাড়ির ভেতর সব কিছুই কেমন যেন ভুতুড়ে মনে হয়! একই রকম ভাবে যদি সব ফার্নিচার এবং দেয়াল যদি লাল হয়, তবে ভাবুন তো সেই বাড়িতে আপনি কতক্ষণ থাকতে পারবেন? যেকোন স্বাভাবিক মানুষ খানিক পরেই রেগে মেগে বের হয়ে যাবেন সেই বাড়ি থেকে! তাই বাসায় রঙ করার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। যেন একঘেয়ে কোন রঙ বার বার ব্যবহার করা না হয়। কিছু শেড ও টিন্ট নিয়ে কাজ করা যেন হয়। যেমনঃ সাদার সাথে আইভরি কালার বা কিছু অংশ গ্রে রঙ ব্যবহার করা। সাদা দেয়ালের মাঝে কালো কোন অংশ রাখা যার ভেতর সাদা পেইন্টিং থাকবে। আবার কিছু অংশে ব্যবহার করা হবে সাদার ভেতর কালো পেইন্টিং। এভাবেই ঘর সাজানো হয়। ঘরের এই রঙ ও ডিজাইন টেকনিক ডুয়ো নামে পরিচিত। মানে দুটো রঙ ব্যবহার করে ঘরের দেয়াল রঙ করা। সাধারণত আমরা যেসব বাড়িতে ভাড়া থাকি সেগুলো মনো টোন এ করা। মনো হল এক রঙ। পুরো ঘরের সব কক্ষ একরকম রঙ করা। এগুলোতে সৌন্দর্য খুঁজে ফেরা বৃথা। সব কক্ষেই নানান আসবাবে ঠেসে রাখা হয়। ফলে ঘরের ভেতরটা বোঝা যায় না তেমন। কিন্তু ধীরে ধীরে মানুষ সচেতন হচ্ছে। মিনিমালিজমের চর্চা শুরু হয়েছে। যেটা একেবারে না হলেই নয়, সেই আসবাবটাই কেনা হচ্ছে বা বানানো হচ্ছে। তাই এক্ষেত্রে পরিবর্তন লক্ষণীয়।

রঙ মানুষের ওপর অনেক প্রভাব বিস্তার করে। যেমনঃ লাল রঙ দেখলেই মনের ভেতর আনন্দ ভর করে। আবার কেউ কেউ খিদে অনুভবও করেন। বিজ্ঞানীরা বলেন লাল রঙ হল আনন্দের রঙ। একই সাথে খাবার চিহ্নিত করার রঙও বটে। অনেক রেস্টুরেন্টে একারণেই লাল রঙ ব্যবহার করা হয়। এটা মানুষের মননে খিদে ভাব জাগায়। আবার আনন্দও বিতরণ করে সমানতালে! তাই খাবার ঘর বা ডাইনিং এ লাল রঙের দেয়াল থাকতে পারে। লাল রঙ আবার শিশুদের ঘরের ভেতরও থাকতে পারে। এটা শিশুদের মনন গঠন করতে সাহায্য করে।

সাদা হল শুদ্ধতার প্রতীক। যেসব কক্ষে কী রঙ করা হবে বোঝা কষ্টকর, সেখানেই সবাই পরামর্শ দেয় সাদা করার কারণ সাদা রঙ করলে ঘরের সংকীর্ণতা কমে। ঘরকে সুন্দর মনে হয়। সাদা রঙ্গে যে কোন আসবাব বসানো যায়। তবে আসবারের ও রঙ আছে। সেটাও টোন ঠিক রেখে বসানো উচিত। যেমন কাঠের বার্নিশের সব আসবাব। হঠাৎ করে যেন লাল একটা আলমারি চলে না আসে। এরকম ঊদ্ভট কিছু যেন না হয় সেটা লক্ষণীয়।

হলুদ হল গাম্ভীর্যের প্রতীক। ঘরের ভেতর কোন একটা দেয়াল হলুদ হলে ঘরের ভেতর হঠাৎ যেন সূর্যালোক নেমে আসে। ব্যাপারটা বেশ আকর্ষণীয় হয়। হলুদের মাঝে বিভিন্ন টোন আছে। কমলাটে হলুদ বা লেবু রঙা হলুদ, লালচে হলুদ- এসব হলুদের ভেতর সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় লেবু রঙা হলুদ। এটি ডায়নিং এ বেশি ব্যবহার করা হয়। এটাও লালের মতোই খিদে বাড়ায়। মানুষের মস্তিষ্কের ভেতর খাবার প্রতি আগ্রহের সিগন্যাল দেয়। তবে কোন শিশুর ঘরে হলুদ রঙ করা উচিত না। কারণ হলুদ রঙের ভেতর বড় হওয়া শিশুটি একদিন মারাত্মক অপরাধী হতে পারে। এটি মানুষের মনের ভেতর অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি করে।

সবুজ হল শান্তির প্রতীক। কারো চোখের অসুখ হলেই ডাক্তার বলেন যেন সবুজের দিকে মিনিট দুয়েক প্রতিদিন তাকিয়ে থাকেন। এতেই নাকি চোখ সেরে ওঠে! তবে চোখ সারুক বা না সারুক, মানুষের মন প্রফুল্ল হয়। বসার ঘর বা রান্নাঘর অথবা ফ্যামিলি লিভিং যেকোন ঘরের একটা বা দুইটা দেয়াল হঠাৎ কলাপাতা রঙা সবুজ ঘরে এনে দিতে পারে অদ্ভূত শান্তিময় পরিবেশ।

নীল হল আকাশের প্রতীক। অনেকেই বেডরুমে নীল ব্যবহার করেন। তবে নীল বেডরুমের চাইতে পড়ার ঘর বা ডাইনিং এ ব্যবহার করা উচিত। নীল মনসংযোগে সহায়তা করে।

গোলাপী রঙ সাধারণত বেডরুমে ব্যবহারের জন্যেই বলা হয়। এটি শান্তি ও স্নিগ্ধতা এনে দেয়। বেডরুমে গোলাপী রঙের শেড ও টিন্ট ব্যবহার করলে ঘর সুন্দর ও শান্ত থাকে।

রঙ করার সময় শুধু এটুকুই মাথায় রাখতে হয় যেন রঙটা দেখতে ক্যাটক্যাটে মনে না হয়, যেন চোখে সয়ে যায়। যেন কারো চোখের জন্যে ক্ষতির কারণ না হয়। খুব উজ্জ্বল রঙ এজন্যই ব্যবহার করা উচিত না। সবসময় শেড বা টিন্ট ব্যবহার করা হয়। এতে ঘর সুন্দর হয়। উজ্জ্বলতা থাকে। ঘরে রঙের প্রলেপ অনেকদিন থাকে। মানুষ সেই ঘরে থাকতে পছন্দ করে। সম্পর্কগুলো সুন্দর হয়। শান্তি বিরাজমান থাকে। এটাই তো শেষমেষ সবাই চায়, তাই না?

 

No comment yet, add your voice below!


Add a Comment

বাড়ি বানাতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য একটি পরিপূর্ণ ওয়েব পোর্টাল- হোম বিল্ডার্স ক্লাব। একটি বাড়ি নির্মাণের পেছনে জড়িয়ে থাকে হাজারও গল্প। তবে বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে পদে পদে নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হই আমরা। এর মূল কারণ হচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়ি তৈরির নিয়ম নীতি সম্পর্কে ধারণার অভাব। সেই অভাব পূরণের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে হোম বিল্ডার্স ক্লাব। আমাদের রয়েছে একদল দক্ষ বিশেষজ্ঞ প্যানেল। এখানে আপনি একটি বাড়ি তৈরির যাবতীয় তথ্য, পরামর্শ ও সাহায্য পাবেন।

© 2020 Home Builders Club. All Rights Reserved by Fresh Cement