বাসা বাড়িতে আলোক সজ্জা

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

সৌরজগতের তিন নম্বর গ্রহ এই পৃথিবীতে আলো ছাড়া আমরা অচল। মানুষ নামের প্রাণীটির বিকাশে আলোর গুরুত্ব অসীম। এই অসীম গুরুত্বপূর্ণ আলোর প্রধানতম উৎস হল সূর্য। সূর্যের আলোর কারণেই মানুষের বিকাশ এবং বেড়ে ওঠা। যতগুলো যুগ মানুষ পেরিয়ে আজকের এই বিজ্ঞানের উৎকর্ষের যুগে প্রবেশ করেছে, তার ভেতর আলোর ক্ষেত্রে মানুষ ধরে নেয়া যায় একটা মাইলফলক তৈরি করেছে। সেই প্রস্তরযুগে আগুনের আবিষ্কারের পর গত শতকে এসে সেই আলোকে মানুষ নিজের মত করে আবিষ্কার করেছে ইলেক্ট্রিক বাতি আবিষ্কারের মাধ্যমে। এরপর যত দিন গেছে মানুষ তত বিকশিত হয়েছে। বিজ্ঞানে একের পর এক আবিষ্কার হয়েছে বাতির নবতর সংস্করণ। তারপর মানুষ আবিষ্কার করল লাইট ইমিটিং ডায়োড বা হাল আমলের LED লাইট। এই লাইট আবিষ্কারের প্রায় পনের বছর পর আবিষ্কার হল সাদা LED লাইট যা বদলে দিল মানুষের জীবনধারা। বলতে গেলে সভ্যতা পালটে দেয়া এই আবিষ্কারের ফলে মানুষ নিজের অভ্যাসের ভেতর নিয়ে এল নতুন এক পরিবর্তন। সেই পরিবর্তনের হাত ধরে বাসাবাড়ির পুরোনো টাংস্টেন বাতি গেল হারিয়ে। দিকে দিকে LED লাইটের জয়জয়কার। আর সেই সময় মাত্র ষোল ওয়াটের LED লাইটের নিচে বসে এই লেখাটি লিখছি।

আলো কত প্রকার ও কী কীঃ

ন্যাচারাল লাইট বা ডে লাইট। আরেকটি হল আর্টিফিসিয়াল লাইট।

প্রতিটি স্থাপত্যের মাঝেই যেন সঠিকরূপে আলো ও বাতাস প্রবেশ করতে পারে সেভাবেই ডিজাইন করা উচিত। প্রতিটি কোণে আলো প্রবেশ করবে। প্রতিটি আসবাবপত্রে আলো পড়বে। সেই আলো যেখানে পৌঁছাবে না, সেখানেই কেবল আর্টিফিসিয়াল আলোক ব্যবহার করা হবে। এটাই সকল প্রকার স্থাপত্যের মূল অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত। তবুও কিছু অংশ যেমন ডায়নিং স্পেস বা কোন করিডোর স্পেসে ঠিকমতো আলো প্রবেশ না করলে আলোকিত করার জন্য নানা রকম বাতির ব্যবহার করা হয়। সেক্ষেত্রে আলো ব্যবহারের জন্যে বিভিন্ন রাস্টিক ম্যাটেরিয়েল ব্যবহার করে সেই স্থানের দেয়াল ও ছাদের নানা রকম মাত্রা দেয়া যায়। ফলে সেই জায়গাটির সৌকর্য বেড়ে যায় বহুগুণ।

আর্টিফিসিয়াল লাইট সোর্সের প্রকারভেদঃ

১. ডাইরেক্ট লাইট সোর্স

২. ইনডাইরেক্ট লাইট সোর্স

৩. মিলো লাইট

৪. স্পট লাইট

৫. ডেকোরেটিভ লাইট

 

ডাইরেক্ট লাইট সোর্স কী?

Direct light source কে সিঙ্গেল লাইট সোর্স ও বলা হয়। একটি কামরায় একটি আলোক উৎস থাকে যা সরাসরি ঘরকে আলোকিত করে। এটিই ডাইরেক্ট লাইট সোর্স। আমরা ঘরে যে সব আলোক উৎস খুব সাধারণভাবে ব্যবহার করে থাকি যা পুরো ঘরকেই আলো দেয় তাকে বলে ডাইরেক্ট লাইট সোর্স। যেমন: আমরা যে এনার্জি বাল্ব বা টিউব লাইট ব্যবহার করি, এটাই হল ডাইরেক্ট লাইট সোর্স। এই ডাইরেক্ট লাইট সোর্স আমাদের ঘর পুরো আলোকিত করে দেয়।  কোন বস্তু বিশেষভাবে দেখা যায় না। সব কিছুই সাধারণ মানের আলোতে আলোকিত হয়। কোন স্পট লাইট ইফেক্ট থাকে না বলে প্রতিটি বস্তুর ওপর সমান আলো পড়ে।

 

যখন একটি কক্ষে শুধুমাত্র একটি বা দুইটি লাইট থাকে, তখন ব্যক্তির ওপর আলো পড়লে দুটি বিষয় ঘটে। এক হলঘর এর ভেতর আলোক উৎস একটি বা দুটি হওয়ার ফলে বেশ কিছু ছায়া তৈরি হয়। সাধারণ এনার্জি সেভার লাইট বা টিউব লাইটের ক্ষেত্রে সেটি কম ছায়া তৈরি করলেও অন্য আলোগুলো, যেমন টাংস্টেন বা অন্যান্য বাতিগুলো কিন্তু ঠিকই এমন আলো দেয় যা নিখুঁত ছায়া তৈরি করে। এতে ঘরের বিভিন্ন কোণে অন্ধকার অঞ্চল তৈরি হয়। আসবাবগুলোর কোণায় তৈরি হয় বিচ্ছিন্ন সব ছায়া অঞ্চল যা ঘরের সৌন্দর্যকে ব্যাহত করে। তাই অনেক দামী আসবাব ব্যবহারের পরও সৌন্দর্যটা ঠিকমতো অনুধাবন করা যায় না।

 

ডাইরেক্ট লাইট সোর্স হিসেবে বহুল ব্যবহার হয় টিউব লাইট। বাজারে পাওয়া যায় চার ফিট থেকে দু ফিট বা এক ফিট লম্বা টিউব লাইট। এসব টিউব লাইটের আলো সহনশীল হলেও এদের আলো একমুখী। ফলে বেশ কিছু মধ্য ছায়া অঞ্চল তৈরি হয় ঘরে। বর্তমানে অবশ্য এলইডি টিউবও পাওয়া যায় যা সাধারণ টিউব লাইটের চাইতে প্রায় চারগুণ বেশি আলো দেয় এবং এটি অনেক বছর চলে।

LED লাইট ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার মাধ্যমে সারা বিশ্বে একটি বিপ্লব শুরু হয়ে গেছে এক দশক আগেই। বর্তমানে বাংলাদেশে এই আলোক উৎস ব্যবহার বেড়েছে। একটু দামী হলেও এই আলো সাধারণ আলোর চেয়ে অনেক বেশি জোরালো এবং চোখ সহনীয়। এর স্থায়ীত্বও অনেক বেশি।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী আরেক বাতির নাম হল এনার্জি সেভার লাইট। এটি টিউব লাইটের ছোট্ট রুপ।  দামে তিন থেকে পাঁচশ টাকা। এটি টিউব লাইটের মতোই আলো দেয়। তবে ব্যবহারের ফলে ধীরে ধীরে এর আলো কমতে থাকে। ফলে এক সময় ঘর অন্ধকার হয়ে যায়।

ইনডাইরেক্ট লাইট সোর্সঃ

যেসব আলোক উৎস এমনভাবে ব্যবহার করা হয় যেন আপনার ঘরে কোন আলোক উৎস দেখা যাবে না অথচ আলো দেখা যাবে, তখন তাকে বলা হয় ইনডাইরেক্ট লাইট সোর্স।  

এ ধরণের আলোর ব্যবহার প্রধানত শুরু হয় যখন ইন্টেরিয়র ডিজাইনের প্রচলন ঘটে। প্রচলিত এই ধারায় স্থপতি ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা প্রধানত গুরুত্ব দেন আলোর দিকেই। পুরো ঘর আলোকিত হবে কিন্তু একটা আলোক উৎসও দেখা যাবে না– এটাই হল মূলনীতি। প্রতিটি বস্তু সমান আলোকিত হয়। প্রতিটি ছায়া একই রকম হয় বলে ঘরের মাঝে একটা সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়।  

বাসাবাড়ি বা অফিসে ইনডাইরেক্ট লাইটিং বেশ প্রচলিত। বাসাবাড়িতে লিভিং রুম বা ডাইনিং স্পেস এ ইনডাইরেক্ট লাইটের ব্যবহারটা বেশি। ঘরের ভেতর যে নকল ছাদ থাকে, তাতে এই ইনডাইরেক্ট লাইট ব্যবহার করা হয়। এটি বেশ আরামদায়ক আলো প্রদান করে।  

এক সময় এই ইনডাইরেক্ট লাইটিং এর জন্য টিউব লাইট ব্যবহার করার প্রচলন ছিল। বর্তমানে এলইডি স্ট্রিপ ব্যবহার করা হচ্ছে। একটি এডাপ্টর ব্যবহার করে লাইট স্ট্রিপ শুইয়ে দেয়া হয় ডিজাইন করা সিলিং বা দেয়ালের ক্লাডিং-এ।

মিলো লাইটঃ

ডাইরেক্ট ও ইনডাইরেক্ট লাইট ব্যবহারের মাধ্যমে একটি অন্যরকম পরিবেশ তৈরি করে যে লাইট, তাই মিলো লাইট হিসেবে পরিচিত। এই লাইটিং সাধারণত অফিস বা রিডিং টেবিলের আশেপাশে ব্যবহার করা হয়। যেখানে পড়াশোনা বা কাজ করা হয়।

মিলো লাইটিং এর ক্ষেত্রে ইনডাইরেক্ট লাইট সোর্স থেকে বেশ দূরে ডাইরেক্ট লাইট সোর্স বসিয়ে সান লাইট বা সূর্যের আলোকের মতো সাদা আলো তৈরি করার চেষ্টা করা হয় যা চোখের জন্য উপকারী।

সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর ঘূর্ণনের ফলে এক এক সময় এক এক ধরণের আলো তৈরি হয়। মিলো লাইট এর ক্ষেত্রে দুপুরের বা বিকেলের আলোটাকে বিবেচনা করা হয় চোখ সহনীয় সুন্দর আলো হিসেবে। এরপর একে তৈরি করা হয় বিভিন্ন লাইটের আলো মিশিয়ে। বিভিন্ন রকমের আলোক উৎস বসিয়ে দেয়া হয়। ফলে বস্তু বা পদার্থের আসল রঙ বোঝা যায়। চোখ তার সঠিক কাজ করে মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় সঠিক সিগন্যাল।

ফোকাস লাইটঃ

কোন একটি বস্তুকে সবার চোখের সামনে তুলে ধরার জন্য এই লাইট ব্যবহার করা হয়। একে স্পট লাইট ও বলা হয়। স্পট বা ফোকাস যে নামেই একে নামাঙ্কিত করা হোক- এর কাজ হল ঘর বা প্রতিষ্ঠানের যেকোন বস্তুর ওপর আলো ফেলে একটি ‘আলোক অঞ্চল’ তৈরি করা যাতে আলোক অঞ্চলে থাকা বস্তু বা দেয়াল সবার নজরে আসে। এক্ষেত্রে ফোকাস লাইট হিসেবে এলইডি বাল্ব এর ব্যবহার বেড়েছে।

বাসায় কোন পেইন্টিং বা কোন দামী ছবির ওপর ফোকাস লাইট ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে ট্রেইল ধরে লাইট বসানোর ব্যবহারও দেখা যায় মাঝে মধ্যে।

ঘরের কোন দেয়ালে পাথর বা মার্বেলের ক্ল্যাডিং থাকলে সেটার উপরও দেয়া হয় ওয়াল ওয়াশ স্পট লাইট যা ঘরের মাঝে বাড়তি মাত্রা যোগ করে।

ঘরের বিভিন্ন আসবাবের ওপর লাইট ব্যবহার করে একে ফুটিয়ে তোলার কাজটিও করা হয় এই স্পট লাইট দিয়েই। প্রতিটি কোণে চলে যায় আলো- তাতে ছায়ার অংশ কমে যায়। ঘরের সৌন্দর্য্য উপভোগ করা যায় অনেক বেশি মাত্রায়।

 

ডেকোরেটিভ লাইটঃ

যখন কোন আলোক উৎস নিজেই একটি ডেকোরেশন পিস হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন তাকে ডেকোরেটিভ লাইট বলা হয়। আমরা প্রাচীন কাল থেকে এই ডেকোরেটিভ লাইট ব্যবহার করে আসছি। বিভিন্ন রাজবাড়িতে যে ঝাড়বাতির প্রচলন ছিল, তাই এখন ডেকোরেটিভ লাইটের খোলসে আবির্ভূত হয়েছে।

এসব লাইট যে কত ধরণের ডিজাইনের হয় তার কোন শেষ নেই। ঘরের মাঝে যদি এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার করা হয়, তখন এই সব লাইট সোর্স হয়ে ওঠে কক্ষের মধ্যমণি। এটাই আভিজাত্যের মূর্ত প্রতীক। একই সাথে লাইট সোর্স। একই সাথে এটি ডাইরেক্ট ও ইনডাইরেক্ট লাইটসোর্স হিসেবে কাজ করে।

আলোর যে সব তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান তার ভেতর তিন রকম সাদা আলো আমরা দেখতে পাই-

১. ওয়ার্ম হোয়াইট

২. ডে লাইট

৩. কুল হোয়াইট

আমাদের বাসাবাড়িতে বেশ কয়েক রকমের লাইট ব্যবহার হয়। এসব লাইটের টেম্পারেচার আলাদা। এই টেম্পারেচারের সাথে ঘরের তাপমাত্রার কোন মিল নেই। এটি আলোক প্রকারভেদের মান। লাইট টেম্পারেচার হিসেব করে কম টেম্পারেচারের লাইটকে বলা হয় ওয়ার্ম লাইট। এটা অনেক হলুদাভ আলো দেয়। এতে যেকোন দেয়াল হলদে হয়ে ধরা পড়ে চোখে। ধীরে ধীরে টেম্পারেচার বাড়তে থাকলে ডে লাইট তৈরি হয়। ডে লাইট হল সূর্যের মধ্যদিবসের আলো। এই আলোতে সব বস্তু তার সঠিক রঙে চোখে পড়ে। আবার টেম্পারেচার ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে আলো নীলাভ হয়ে যায়। তখন একে বলা হয় কুল লাইট। দুই নামকরণের কারণ আগুন দেখতে হলুদাভ। আর বরফাচ্ছাদিত অঞ্চল দেখতে নীলাভ সাদা। এদের নামকরণ একারণেই এমন। কিন্তু এই তিন ধরণের আলো আমরা প্রতিনিয়ত ব্যবহার করে চলি। যখন আমরা টিউব লাইট ব্যবহার করি, তখন আমরা আসলে কুল লাইট ব্যবহার করি। তবে এখন বাজারে অনেক ওয়ার্ম হোয়াইট টিউব লাইটও পাওয়া যায়। আবার স্পট লাইটের ক্ষেত্রে ওয়ার্ম স্পটের জয়জয়কার! অফিস বা বাসার কাজের জায়গাগুলোতে ডে লাইট ব্যবহার করা হয় বেশি। রান্নাঘর বা টয়লেটে কুল লাইটের ব্যবহার বেশি হয়। ফয়ার বা ডায়নিং-এ ওয়ার্ম লাইট ব্যবহার করা হয়।

মানসিক অবস্থার ওপর আলোর প্রভাব

আমাদের ওপর আলোর প্রভাব প্রচুর। যখন আমরা রেস্টুরেন্টে বা কোথাও খেতে যাই, তখন আলো ছায়ার ব্যবহার করে ওয়ার্ম লাইট ফেলা হয় মানুষের ওপর যা আমাদের ক্ষিদে বৃদ্ধিতে সহায়ক। আবার কোন একজন মানুষকে যদি সবসময় লাল আলোর কোন কক্ষে রাখা হয়, তখন তার মধ্যে ক্রোধের উন্মেষ ঘটে। অনেক মানুষ দিনের পর দিন লাল ও হলুদ আলোর কক্ষে থাকার ফলে ধীরে ধীরে খিটখিটে মেজাজের হয়ে ওঠে। এক্ষেত্রে আলোক উৎস পরিবর্তন করলেই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়। ঘরের বেশিরভাগ অঞ্চল অন্ধকার থাকলে শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বৃদ্ধি কমে যায়। মানুষ রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে সহজেই। একটি সুন্দর আলোকিত ঘর মানুষকে দিতে পারে সুস্থ একটি জীবনধারা। ছোট্ট এই মানব জীবনে সুস্থ সুন্দরভাবে বাঁচতে কে না চায় বলুন?

No comment yet, add your voice below!


Add a Comment

বাড়ি বানাতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য একটি পরিপূর্ণ ওয়েব পোর্টাল- হোম বিল্ডার্স ক্লাব। একটি বাড়ি নির্মাণের পেছনে জড়িয়ে থাকে হাজারও গল্প। তবে বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে পদে পদে নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হই আমরা। এর মূল কারণ হচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়ি তৈরির নিয়ম নীতি সম্পর্কে ধারণার অভাব। সেই অভাব পূরণের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে হোম বিল্ডার্স ক্লাব। আমাদের রয়েছে একদল দক্ষ বিশেষজ্ঞ প্যানেল। এখানে আপনি একটি বাড়ি তৈরির যাবতীয় তথ্য, পরামর্শ ও সাহায্য পাবেন।

© 2020 Home Builders Club. All Rights Reserved by Fresh Cement