ইমারত নির্মাণের নিয়ম-কানুন

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

ইমারত নির্মাণের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থা নীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে- রাজধানী ঢাকার জন্য রাজউক, বিভাগীয় শহরের জন্য সিটি কর্পোরেশন, জেলা শহরের জন্য পৌরসভা ইত্যাদি। এসব নিয়ম মেনে ইমারত নির্মাণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে অনুমতি গ্রহণ করতে হয়। একে বলা হয় “ইমারতের নকশা ও বসবাস উপযোগীতার অনুমোদন”।

এই বিধিমালার অধীনে ইমারতের নকশা ও বসবাস উপযোগীতার অনুমোদন পদ্ধতি নিম্মে উল্লিখিত ৩টি পর্যায়ে সম্পন্ন হবে। যথাঃ-

  • ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র (Land Use Clearance)
  • নির্মাণ অনুমোদনপত্র (Building Permit)
  • বসবাস বা ব্যবহার সনদপত্র (Occupancy Certificate)

ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র

১) ছাড়পত্র ও নির্মাণ অনুমোদনের আবেদনপত্র দাখিলের পূর্বে, কর্তৃপক্ষের আওতাভূক্ত কিন্তু পরিকল্পিত এলাকার বহির্ভূত যে কোন ভূমিতে উন্নয়নের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র গ্রহণ করা জরুরী।

২) জমির মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্রসহ প্রস্তাবিত জমি ব্যবহার ছাড়পত্রের জন্য নির্ধারিত ফি সহ নির্ধারিত ছক এর মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

৩) আবেদনকারী কর্তৃক স্বাক্ষরিত  ৩ (তিন) কপি আবেদনপত্র  এবং এর সাথে ৩ (তিন) কপি ১ : ৫,০০০ অথবা ১ : ১০,০০০ স্কেলে প্রণীত সাইটের জরিপ ম্যাপ সংযোজন করতে হবে ,যাতে জমি চিহ্নিত করার মত আর.এস / সি.এস ম্যাপসহ একটি খসড়া স্থানিক নকশা (Location Map) থাকবে।

ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের মেয়াদকালঃ ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের মেয়াদ হবে অনুমোদনের তারিখ হতে ২৪ (চব্বিশ) মাস। ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে নতুন করে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।

নির্মাণ অনুমোদনপত্র

১) নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করতে বা বিদ্যমান অবকাঠামো পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা সংযোজন করতে ইচ্ছুক হলে আইন অনুযায়ী নির্মাণ অনুমোদনপত্র গ্রহণ করতে হবে।

২) যথাযথ যোগ্যতাসম্পন্ন কারিগরী ব্যক্তিবর্গ নকশায় অমুদ্রিত স্বাক্ষর প্রদান করবে এবং কারিগরি ব্যক্তিবর্গকে তাদের পেশাজীবি সংগঠনের সদস্য নম্বর ও রেজিষ্ট্রেশন নম্বর নকশা ও দলিলাদির নির্ধারিত স্থানে উল্লেখ করতে হবে।

৩) নির্মাণ অনুমোদনপত্রের জন্য আবেদনপত্রের সাথে নিম্মলিখিত দলিলাদি (A3 বা A4 সাইজের কাগজে) নকশাসহ সংযুক্ত করে উপস্থাপন করতে হবে। যথা:

  •  ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের অনুলিপি;
  •  ফি প্রদানের রশিদ;
  •  আবেদনকারীর বৈধ মালিকানার প্রমাণস্বরূপ দলিলাদির সত্যায়িত অনুলিপি;
  •  যোগ্যতাসম্পন্ন কারিগরি ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত মৃত্তিকা পরীক্ষা (Soil Test) প্রতিবেদন;
  • এ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ক্ষেত্রে তলাওয়ারী আবাস-ইউনিটের সর্বমোট সংখ্যা;
  • প্লটের ক্ষেত্রফল, ভূমি আচ্ছাদন, সেট ব্যাক স্থানের পরিমাপ এবং মোট তলার সংখ্যা;
  • প্রকল্পে নিয়োজিত স্থপতির অভিজ্ঞতার প্রমাণস্বরূপ সংশ্লিষ্ট পেশাজীবি প্রতিষ্ঠানে কারিগরি ব্যক্তি হিসাবে তালিকাভূক্ত সার্টিফিকেট এর অনুলিপি।

৪) A সিরিজের (A0 হইতে A4 সাইজ) কাগজে মেট্রিক মাপে সকল নকশা প্রণয়ন করতে হবে।

৫) নকশাসমূহে নিম্মলিখিত তথ্য সন্নিবেশিত থাকতে হবে :

  • নকশার টাইটেলসহ আবেদনকারীর নাম, ঠিকানা, টেলিফোন নম্বর (যদি থাকে) ও অমুদ্রিত স্বাক্ষর;
  • সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি বা প্রকৌশলীর নাম, ঠিকানা, টেলিফোন নম্বর (যদি থাকে) ও অমুদ্রিত স্বাক্ষরসহ স্ব স্ব পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদ নম্বর ও রেজিষ্ট্রেশন নম্বর;
  • সরকার কর্তৃক পরিকল্পিত ও উন্নয়নকৃত ভূমি বা প্লটের ক্ষেত্রে প্লট বা হোল্ডিং এর বরাদ্দ গ্রহীতার নাম ও ঠিকানা, রাস্তা ও এলাকার নাম এবং বেসরকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উন্নয়নকৃত এলাকার প্লটের ক্ষেত্রে প্লট বা হোল্ডিং এর মালিকের নাম ও ঠিকানা, রাস্তা এবং এলাকার নামসহ লে-আউট নকশা অনুমোদনের রেফারেন্স নম্বর ও তারিখ;
  • ব্যক্তি বা অন্যান্য ক্ষেত্রে হোল্ডিং নম্বর, রাস্তা ও এলাকার নামসহ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের রেফারেন্স নম্বর ও তারিখ;

৬) মৌজার নাম এবং সি.এস./আর.এস./এস.এ. দাগ নম্বর বা প্লট নম্বরসহ সাইট যে থানার অন্তর্গত, তার নাম।

৭) সাইট প্ল্যান বা এলাকা নকশা নূন্যতম ১ : ৪০০০ স্কেলে অঙ্কিত হবে এবং এতে নিম্নলিখিত তথ্য থাকতে হবে । যথা:

  • সাইট যে মৌজায় অবস্থিত, সাইটের অবস্থানসহ এর সি.এস. ম্যাপ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আর.এস. বা এস.এ. ম্যাপের অংশবিশেষ অথবা সরকার বা অনুমোদিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উন্নয়নকৃত প্রকল্পের ক্ষেত্রে সাইটের অবস্থানসহ প্রকল্প এলাকা নকশার অংশবিশেষ এবং
  • সাইটের দাগ বা প্লট এবং পার্শ্ববর্তী দাগ বা প্লটসমূহের অবস্থান নির্দেশক।

৮) লে-আউট নকশা  ১ : ২০০  স্কেলে অঙ্কিত হতে হবে এবং এতে  নিম্নলিখিত  তথ্য থাকতে হবে । যথা:

  • সাইটের প্রতি দিকের সীমানা ও পরিমাপ;
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, সাইটে বিদ্যমান ভবনসমূহের পরিসীমা, বর্হিভাগের পরিমাপ, উচ্চতা, তলার সংখ্যা এবং রক্ষিত আবশ্যিক  উন্মুক্ত  স্থানের পরিমাপ;
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, সাইটে প্রস্তাবিত ও বিদ্যমান ভবন বা কাঠামো, জলাশয়, উদ্দ্যান, অন্যান্য ভূ-নৈসর্গিক এলাকা, নিচু ভূমি, খোলা প্রান্তর, বনাঞ্চল ইত্যাদির অবস্থান;
  • এলাকা ও সড়কের নাম;
  • সড়কসমূহের দৃষ্টে সাইট বা প্লটের দিক নির্দেশ, সাইটের সংলগ্ন রাস্তার প্রস্থ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন বা নিজস্ব রাস্তার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ রাস্তার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ;
  • রাস্তা হতে সাইটে প্রবেশ ও নির্গমনের গেইটের অবস্থান;
  • প্রস্তাবিত ও বিদ্যমান ভবনসমূহের চারিদিকে পানি প্রবাহের দিক নির্দেশনাসহ নর্দমার (যদি থাকে) অবস্থান;
  • ভূগর্ভস্থ জলাধার, সেপটিক ট্যাংক এবং সোকপিট, পয়ঃনিষ্কাশন লাইনের সহিত সংযোগের অবস্থান (যদি থাকে) এবং
  • সাইটের মধ্যে আবর্জনা সংগ্রহস্থলের অবস্থান।

 

বসবাস বা ব্যবহার সনদপত্র

১) ইমারত আংশিক বা সম্পূর্ণ নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর এর ব্যবহার বা বসবাসের জন্য বসবাস বা ব্যবহার সনদপত্র গ্রহণ করতে হবে।

২) বসবাস বা ব্যবহার সনদপত্র গ্রহণের জন্য আবেদন পত্রের সাথে নিম্নলিখিত দলিল ও নকশাদি কর্তৃপক্ষের সংরক্ষণের জন্য দাখিল করতে হবে। যথাঃ

  • সমাপ্তি প্রতিবেদন (Completion Report);
  • কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত স্থাপত্য নকশার ভিত্তিতে নির্মিত ইমারতের নির্মাণ নকশা (As Build Architectural Drawing);
  • ইমারতের কাঠামো নকশা (Structural Design); এবং
  • ইমরাত সেবা (Building services) সংক্রান্ত সকল নকশা।

৩) সকল নকশার ডিজাইন পর্যাপ্ততা (Design adequacy) ও উপযুক্ততার যাবতীয় দায়িত্বভার নকশার সাথে সংশ্লিস্ট পেশাজীবিদের (স্থপতি বা প্রকৌশলী) উপর ন্যাস্ত হবে।

সামগ্রিকভাবে :

রাজউক থেকে “ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-২০০৮” অনুযায়ী অনুমোদনের জন্য নকশায় নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ থাকতে হবে ।

১) ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র (নিম্নবর্ণিত ছাড়পত্রের মধ্যে যেটি প্রযোজ্য)

  • ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির ক্ষেত্রে নগর পরিকল্পনা শাখার ছাড়পত্র,
  • রাজউক প্লটের ক্ষেত্রে এস্টেট শাখার ছাড়পত্র,
  • অন্যান্য সরকারী জমির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অফিসের ছাড়পত্র,

২) উন্নয়ন অনুমতিপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

৩) নির্মাণ অনুমোদনপত্র: নকশা অনুমোদনের আবেদন ফরম নং- ৪০১ (মূল্য ৩০০/-) রাজউক নির্ধারিত ব্যাংক হতে সংগ্রহ করতে হবে।

৪) প্রস্তাবিত ভূমিতে আবেদনকারীর বৈধ মালিকানার স্বপক্ষে কাগজপত্রের সত্যায়িত কপি দাখিল করতে হবে (দলিল, নামজারী, কর, পর্চা ইত্যাদি)।

৫) Floor Area Ratio (FAR) এর হিসাব প্রস্তাবিত নকশায় উল্লেখ করতে হবে।

৬) নকশা অনুমোদন শাখা কর্তৃক নির্ধারিত ফি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা প্রদান করে ব্যাংক রশিদ প্রদান করতে হবে।

৭) স্থাপত্য নকশা প্রণয়নকারী প্রকৌশলী/ স্থপতি, মালিক/ ডেভেলপারের নাম, পেশাজীবি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নম্বর, ঠিকানা ও ফোন নম্বর উল্লেখ করতে হবে।

৮) সয়েল টেস্ট রিপোর্ট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

৯) নির্মাণকালীন বিভিন্ন পর্যায়ে কারিগরি ব্যক্তি কর্তৃক প্রত্যয়ন প্রযোজ্য হবে।

১০) বসবাস ও ব্যবহার সনদপত্র, নির্মাণ শেষে As-Build Drawing দাখিল ও Occupancy Certificate গ্রহণ প্রয়োজন হবে।

পৌরসভার অনুমোদনের জন্য প্রদত্ত নকশায় নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ থাকতে হবেঃ

১) নকশার ৮টির অনুলিপি প্রদান করতে হবে। যেসব নকশা প্রদান করতে হবে , সেগুলো হলোঃ

  • Plan
  • Elevation
  • Section
  • Site plan
  • Lay-out plan

২) নকশায় নকশা প্রস্তুতকারী এবং মালিক এর স্বাক্ষর থাকতে হবে।

৩) নকশা অনুমোদনের জন্য নির্দিষ্ট ফি প্রদান এর কাগজ দিতে হবে।

৪) Plan, Elevation এবং Section এর স্কেল হবে ১ ইঞ্চি = ৮ ফিট।

৫) Site Plan এর স্কেল হবে ১ ইঞ্চি = ৩৩০ ফিট। যে প্লট এ নির্মাণ হবে তা লাল কালিতে দেখাতে হবে।

৬) Lay-out Plan এ রাস্তা পরিষ্কারভাবে দেখাতে হবে। রাস্তা থেকে দূরত্ব, সংযোগ সড়ক এবং প্রয়োজনীয় ছেড়ে দেওয়া জায়গা দেখাতে হবে।

৭) Plan-এ বিষদভাবে বিভিন্ন রুম পরিষ্কার ভাবে দেখাতে হবে।

৮) স্থাপনার ভিত্তি এর Section এবং Plan বিষদভাবে দেখাতে হবে।

৯) নকশার স্কেল, মৌজার নাম, প্লট নাম্বার এবং মালিকের নাম প্রতিটি নকশায় পরিষ্কার উল্লেখ করতে হবে।

১০) অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় ফর্ম সঠিক তথ্য দ্বারা মালিকের পূরণ ও স্বাক্ষর করতে হবে।

56 Comments

  1. প্লটের সামনের অংশ আমার আর পিছনের অংশ ভাইয়ের এক্ষেত্রে রাস্তা ছাড়ার নিয়ম কি হবে?

    • Home Builders Club

      আপনার সংশ্লিষ্ট জেলার পৌরসভা অফিসে যোগাযোগ করুন, জমির পরিমাণের উপর রাস্তা এবং খালি জায়গা রাখার নিয়ম আছে, এসব ক্ষেত্রে নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় কাজ করা ভালো। ( পৌরসভার নিয়মে জমির পরিমাণের উপর পেছনে ৩.৫-৬.৫ ফিট, দুই পাশে ৩.৫-৪ ফিট, সামনে ৫-৬.৫ ফিট জায়গা খালি রেখে বাড়ি করার নিয়ম আছে )।

  2. দুই ফ্ল্যাট এর মাঝে কি জায়গা ছাড়তে হয়?

    • Home Builders Club

      দুই ফ্ল্যাটের মাঝে জায়গা ছাড়া নির্ভর করে বাড়ির ডিজাইন এবং ফ্ল্যাট সংখ্যার উপর। দুই ফ্ল্যাটের মাঝে জায়গা ছাড়া সম্পূর্ণ নিজস্ব ব্যাপার। দুই ফ্ল্যাটের মাঝে ফাঁকা জায়গাকে বলা হয় ভয়েড। দুই ফ্ল্যাটের মাঝে ফাঁকা জায়গা রাখলে জানালা দেওয়া যায়, সেক্ষেত্রে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পাওয়া যায়।

  3. আমার জমির পরিমাণ ১.৬ শতাংশ ১৪ ফিট বাই ৫০ ফিট আমি ঘর করার সময় কত ফিট বাই কত ফিট ব্যবহার করতে পারবো। অথাৎ চারিদিকে কত ফিট করে ছেড়ে ঘর করতে পারবো। মাপ জানালে উপকৃত হব।

    • Home Builders Club

      আপনার জায়গা যদি পৌরসভার অন্তর্গত হয় তাহলে পৌরসভা ইঞ্জিনিয়ারের সাথে কথা বলতে হবে । কারণ, পৌরসভার নিয়ম অনুযায়ী জায়গা ছাড়লে আপনার জন্য ভবন তৈরী করা মুশকিল হবে । তবে সাধারণভাবে আপনি সর্বোচ্চ ১২’ * ৪৫’ জায়গায় ভবন করতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই ইঞ্জিনিয়ারের সহায়তা নিতে হবে ফাউন্ডেশন ডিজাইনের জন্য।

  4. আমার জমির পরিমাণ ৮.৩ শতাংশ ৩৬ ফিট বাই ১০০ ফিট আমি ঘর করার সময় কত ফিট বাই কত ফিট ব্যবহার করতে পারবো। অথাৎ চারিদিকে কত ফিট করে ছেড়ে ঘর করতে পারবো। মাপ জানালে উপকৃত হব।
    ধন্যবাদ
    অসিত কুমার দাস
    সুনামগঞ্জ

    • Home Builders Club

      আপনার জায়গা যদি পৌরসভার অন্তর্গত হয় তাহলে পৌরসভা নিয়ম অনুযায়ী বাড়ি বানাতে হবে। সামনে পিছনে ও দুই পার্শ্বে কতটুকু জায়গা ছাড়তে হবে সে ব্যাপারে স্থানীয় পৌরসভায় সম্পূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। তবে সাধারণত পৌরসভার ক্ষেত্রে দুইপার্শ্বে ও পিছনে অন্তত ৩ ফুট (মূলত ৩ ফুট ৪ ইঞ্চি) করে এবং সামনে ৫ ফুট (৫’-০”) জায়গা ছেড়ে বাড়ি বানাতে হয়। সেক্ষেত্রে আপনার জায়গা যদি সামনে পিছনে ১০০ ফুট হয় তাহলে আপনি ৩০ ফুট বাই ৯২ ফুট জায়গার মধ্যে বাড়ি বানাতে পারবেন।

      পার্শ্বের দৈর্ঘ্য = ৩৬ ফুট – দুই পার্শ্বে ৩ ফুট করে মোট ৬ ফুট = ৩০ ফুট
      সামনে পিছনে দৈর্ঘ্য = ১০০ ফিট – সামনে ৫ ফুট – পিছনে ৩ ফুট = ৯২ ফুট

      তবে সে ধরণের নিয়ম প্রযোজ্য না হলে একজন দক্ষ স্থপতি ও ইঞ্জিনিয়ার এর পরামর্শ নিন। ওনারাই আপনাকে পারিপার্শ্বিকতার কথা বিবেচনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন।

  5. আসসালামু আলাইকুম। মোহাম্মদপুর সাত মসজিদ হাউজিং। সিটি কর্পোরেশন এর অধীনে। রাজউক সেখানে নেই। ২.৫ কাঠা জমিতে ভবন নির্মান করতে হলে কি সেট ব্যাক রুলস ছেড়ে দিতে হবে?? যদি ছাড়তে হয় তাহলে- সামনে, পশ্চাতে,ও পার্শে কতটুকু যায়গা ছেড়ে দিতে হবে?

    • Home Builders Club

      ভবন নির্মাণ করতে হলে অবশ্যই সেট ব্যাক রুলস মানতে হবে।দুই পার্শে ও পিছনে ৩’-৪” ও সামনে ৫’-০” ছাড়তে হবে।তবে সামনের রাস্তার চওড়ার উপর ভিত্তি করে সেটা ৫’-০” এর বেশিও হতে পারে।

  6. বাড়ি বর্ধিতকরণের ক্ষেত্রে পুনরায় পৌরসভার অনুমোদন লাগবে কি? উল্লেখ্য, পাঁচ তলা বাড়ি নির্মাণের অনুমোদন আছে। দুই তলা সম্পূর্ণ হয়েছে ২০১৭ সালে। বাকি তলা করতে এখন আবার অনুমোদনের প্রয়োজন আছে কি?

    • Home Builders Club

      সাধারণত যদি একবার অনুমোদন এবং কিছু অংশের কাজ সম্পন্ন হয়ে থাকে তাহলে পরবর্তী কাজ সম্পন্ন করার জন্য নতুন করে অনুমোদনের দরকার হয় না।যেটা আপনার জন্য প্রযোজ্য হবে।তবে যদি আপনি এখন ৫ তলার পরিবর্তে ৬/৭ তলা করতে চান তবে নতুন করে ৫ তলার উপরের অনুমোদন লাগবে।

  7. গাজিপুরা সাতাশ
    রাস্তাধরা ৮ ফিট
    জমির পরিমাণ : ৪২’*৪৩=১৮০৬ বর্গফুট
    সাম্নে পিছনে এবং দুই পাশে কি পরিমাণ জায়গা ছারতে হবে?
    ধন্যবাদ।

    • Home Builders Club

      পৌরসভার নিয়ম অনুযায়ী দুই পার্শে ও পিছনে ৩’-৪” ও সামনে ৫’-০” জায়গা ছাড়তে হবে।তবে ৮’-০” রাস্তার কারণে সামনে আরেকটু বেশী জায়গা ছাড়তে হতে পারে যেটা পৌরসভার নিজস্ব সিদ্ধান্ত।

  8. আমার জায়গা রংপুর সিটি করপোরেশন এ পরছে, তাহলে আমায় কোথায় প্লান পাস করে নিতে হবে. ৫ শতক ৫ তলা বিল্ডিং এর জন্যে প্লান পাস খরচ কত হবে?

    • Home Builders Club

      রংপুর সিটি কর্পোরেশন থেকে প্লান পাশ করতে হবে এবং প্লান খরচ ঐখানেই নির্দিষ্ট করা আছে।

  9. আনুমানিক খরচ কত হবে? প্লান খরচটা আমি কি করে জানতে পারব?

    • Home Builders Club

      ইমারতের খরচ কত হবে সেটা নির্ভর করে ভবনটি কত তলা হবে।সাধারণত, ৫ তলা এবং ১০ তলা ভবনের প্রতি স্কয়ার ফিটের খরচ একই হবে না। সাধারণভাবে,একটি ৫/৬ তলা ভবনের প্রতি বর্গফুটে ১৭৫০-২০৫০ টাকা খরচ হয়।

  10. ৪ শতাংশ স্কয়ার পৌরসভার ভিতরে জমি ।
    ১ তলা বাড়ি করবো।নিয়ম অনুযায়ী সামনে ৫ পিছনে ৩ ফুট পাশে ২ ফুট করে ছেড়েই বাড়ি করবো । তারপরেও কি পৌরসভায় প্লান অনুমোদন করাতে হবে ?

    • Home Builders Club

      একতলা বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে সেটি যদি পৌরসভার মধ্যে হয়,সেক্ষেত্রে পৌরসভা হতে প্লান পাশ করানোটাই ভাল।

  11. ১ তলা বাড়ীর জন্য কি পৌরসভায় প্লান পাস করাতে হয়

    • Home Builders Club

      টিনসেড বাড়ির জন্য পৌরসভার প্লান পাশ করানোর প্রয়োজন নেই। তবে, একতলা বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে সেটি যদি পৌরসভার মধ্যে হয়,সেক্ষেত্রে পৌরসভা হতে প্লান পাশ করানোটাই ভাল।

  12. আমার জমির পরিমান ২.১৩ শতাংশ পৌরসভার মধ্যে । সামনে পিছনে ৩৮ ফুট ও দুই পাশে ২৪ ফুট । ৬ তলা ফাউন্ডেশন করে বাড়ী করতে চাই । জমির সামনের রাস্তা ১০ ফুট । বাড়ী করা যাবে কিনা । বাড়ী করা গেলে কোন পাশে কতফুট ছাড়তে হবে । দয়া করে জানাবেন।

    • Home Builders Club

      সাধারণত পৌরসভার পিছনে ও পাশে ৩’-৪” সামনে ৫’-০” ছাড়তে হবে । তবে, রাস্তার উপর ভিত্তি করে সামনে বেশী জায়গা ছাড়তে হতে পারে,সেটা পৌরসভা সিদ্ধান্ত নিবে।

  13. জায়গা এক কাঠার নিচে হলে রাজউক কি আমার প্লান পাস করবে?

    • Home Builders Club

      প্লান পাশ না করার কোন কারণ নেই।তবে,তাদের নিয়ম অনুযায়ী প্লান পাশ করতে হবে।

  14. জায়গা না ছেড়ে যদি বাড়ি তৈরি করে ফেলে তাহলে আইনের কোনো সমস্যা আছে কি

    • Home Builders Club

      অবশ্যই আইনগত সমস্যা আছে।কারণ,অনুমোদন করা প্লান অনুযায়ী ভবন নির্মাণ না করলে কর্তৃপক্ষ যে কোন সময় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।

  15. আমার জায়গা নারায়ণগঞ্জ সাড়ে ৩ কাঠা। আমি ৬ তলা বাড়ি করতে আগ্রহী। রাজউক প্লানার আনতে আমার কত টাকা খরচ হবে।
    এবং আমি রাজউকের টাকাটা কত বারে পরিশোধ করবো। কত দিনে প্লান পাশ হবে।

    • Home Builders Club

      রাজউক থেকে প্লান পাশ করার জন্য আপনাকে কোন স্থপতিকে দিয়ে নিয়ম অনুযায়ী প্লান করাতে হবে। প্লানের উপর ভিত্তি করে রাজউকের ফি নির্ধারিত হয় এবং পুরো টাকা একবারেই দিতে হবে। সাধারণত, ৩-৬ মাসের মধ্যে প্লান পাশ হয়,তবে অবস্থাক্ষেত্রে বেশী সময়ও লাগতে পারে।

  16. আমার জমির পরিমাণ ২.২৫ শতাংশ, সাম্নের রাস্তা ৬ ফিট দুই পাশে এবং পিছনে ৩ ফিট করে রাস্তা ছড়া আছে, আমি কই ৫ তলা বাড়ির অনুমতি পাবো রাজউক থেকে? আমার জমির লোকেশন ঢাকা বাউনিয়া, ঢাকা এয়ারপোর্টের পাশের এলাকা

    • Home Builders Club

      রাজউক অবশ্যই অনুমতি দিবে। তবে সেটা ৫ তলা হবে কিনা তা অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে। তাই উত্তম একজন স্থপতির সাথে কথা বলা উচিত।

  17. আমার জায়গার পরিমাণ ৯ শতাংশ । আমি ৫ শতাংশে ৩ ইউনিটে ভবন নির্মাণ করতে চাই। আমার বাড়ি মাতুয়াইল যা কিছুদিন হল সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন হয়েছে । মেইন রোড থেকে আমার বাড়ি ৪০০ ফিট ভিতরে। এই ৪০০ ফিট রাস্তার প্রস্থ হলো ৬-৭ ফিট।

    আমার প্রশ্ন হল আমি এখানে ৬ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে ৩ তলা অথবা ৪ তলা পযন্ত বাড়ি করার অনুমোদন পাবো কি?

    • Home Builders Club

      প্রথমত অনুমোদন না পাওয়ার কোন কারণ নেই ,অবশ্যই পাবেন। তবে, আপনার কতটুকু জায়গা ছাড়তে হবে সেটা সিটি কর্পোরেশনের সাথে কথা বললে তারা সব বলে দেবেন।

  18. আমার 30 * 45 জায়গা আছে পৌরসভাতে কতটুকু Use করতে পারবো 5 তলার জন্য ?

    • Home Builders Club

      রাস্তার সমান্তরাল বরাবর দুই পাশে ৩ ফিট করে ৬ ফিট ও রাস্তার লম্বালম্বি সামনে ৫ ফিট ও পিছনে ৩ ফিট ছাড়ার নিয়ম। সেক্ষেত্রে যদি আপনার জায়গা রাস্তার সমান্তরাল ৩০’-০” হয় তবে সেটা ২৮’-০” ও লম্বালম্বি ৩৭’-০” ব্যবহার করা যাবে।

  19. টিনশেড বাড়ির জন্য কি বাড়ির চারপাশে জায়গা ছাড়তে হয়??

    • Home Builders Club

      সাধারণত দরকার হয় না। তবে চারপাশে অন্তত ১/১.৫ ফুট জায়গা খালি রাখা উচিত।

  20. আমাদের জায়গার পরিমাণ ২.৭৫ কাঠা (CDA) বাড়ির চারপাশে কতটুকু জায়গা খালি রেখে বাড়ি করতে হবে ?

    • Home Builders Club

      জমির দুই পার্শ্বে ও পিছনে নূন্যতম ৩’-৪” ও সামনে ৫’-০” জায়গা ফাঁকা রাখতে হবে। আরো বেশি ছাড়তে হবে কিনা সেটা নির্ভর করবে ভবনের উচ্চতার উপর।

  21. আমার ঢাকা বাউনিয়াতে তিন কাঠা জমি আছে।জমির প্রস্হ-৩৩ফিট দৈর্ঘ ৬৫ ফিট পাঁচ তলা ফাউন্ডেশন দিতে হলে কত টুকু জায়গা ছাড়াতে হবে। জায়গাটা কিছু দিন আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় এসেছে। এখানে সর্ব নিম্ন কত তলা বিল্ডিং করতে হলে রাজউকের অনুমোদন নিতে হবে।

    • Home Builders Club

      এটা নির্ভর করবে আপনি কি ধরনের ভবন বানাতে চাচ্ছেন। সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি কোন স্থপতির সাথে আলোচনা করেন।

  22. ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনে ভিতরে আমার জমির পরিমাণ ২ শতাংশ L সাইজ।
    জমির দুইপাশ দিয়ে চলাচলের জন্য ৩ ফুট রাস্তা আছে। আমাকে কতটুকু জায়গা ছাড়তে হবে? আর ছাড়ার পর ২য় তলায় কি ছাড়কৃত জমি ব্যবহার করতে পারবো?

    • Home Builders Club

      আপনার জায়গার পরিমাণ যেহেতু খুব অল্প তাই সিটি কর্পোরেশনের ইঞ্জিনিয়ারের সাথে আলোচনা করলে সঠিক সিদ্ধান্ত পাবেন।

  23. যদি কেউ পৌরসভার নিয়ম অনুযায়ী বাড়ি নির্মাণ না করে, চারপাশে কতফিট ছেড়ে বাড়ি নির্মাণ কর। সেগুলো যদি মেনে না করে তাহলে কোথায় অভিযোগ করতে জবে

  24. পৌর এলাকায় বাড়ির সীমানা প্রাচীর কতটুকু জায়গা ছেড়ে দিতে হয়।

    • Home Builders Club

      যদি আলাদাভাবে পৌরসভার নিয়ম না থাকে,তাহলে ভবনের দুই পার্শ্বে ও পিছনে (৩’-৪” ও সামনে ৫’-০”) জায়গা ছেড়ে ভবন নির্মাণ করা যাবে। তবে জায়গা এবং সামনের রাস্তার উপর ভিত্তি করে সামনের দূরত্ব বেশি হতে পারে।

  25. পৌরসভা এলাকায় নাকি ৪তলার নীচে ভবন নির্মানে অনুমোদন লাগে না। এর বাস্তবতা কি?

    • Home Builders Club

      যেকোন ধরণের ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অবশ্যই পৌরসভার অনুমোদন নিতে হবে। তবে টিনশেড ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদন নেওয়ার প্রচলন নেই।

  26. স্যার আমি ঝিনাইদাহ পৌরসভায় বাড়ি করার জন্য তিন তালার প্লান পাশ করি তিন বছর আগে আমি এখন কাজ শুরু করব সে খেত্রে কি আবার নতুন করে কি পুরাতন প্লান রিনু করতে হবে না কি,একটু বললে খুশি হবো

    • Home Builders Club

      সাধারণত যেকোনো প্ল্যান পাশ করলে তার মেয়াদ সর্বোচ্চ ২ বছর থাকে কাজ শুরু করার জন্য। তারপরও আপনি পৌরসভার সাথে কথা বলে দেখতে পারেন।


Add a Comment

বাড়ি বানাতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য একটি পরিপূর্ণ ওয়েব পোর্টাল- হোম বিল্ডার্স ক্লাব। একটি বাড়ি নির্মাণের পেছনে জড়িয়ে থাকে হাজারও গল্প। তবে বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে পদে পদে নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হই আমরা। এর মূল কারণ হচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়ি তৈরির নিয়ম নীতি সম্পর্কে ধারণার অভাব। সেই অভাব পূরণের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে হোম বিল্ডার্স ক্লাব। আমাদের রয়েছে একদল দক্ষ বিশেষজ্ঞ প্যানেল। এখানে আপনি একটি বাড়ি তৈরির যাবতীয় তথ্য, পরামর্শ ও সাহায্য পাবেন।

© 2020 Home Builders Club. All Rights Reserved by Fresh Cement