ঘরের দেয়াল ড্রিলিংয়ে যত্নবান হোন

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

পোস্টার টাঙানো, ছবির ফ্রেম ঝোলানো, ওয়ালম্যাট বসানো কিংবা ফ্ল্যাট মনিটর টিভি সেট পছন্দসই উচ্চতায় মাপমতো বসানো- সবকিছুর জন্যই ঘরের দেয়ালে করতে হয় একাধিক ড্রিলিং। এমনকি সৌখিন প্রয়োজনীয়তার বাইরে, কাপড় শুকানোর দড়ি ঝোলানোর মতো প্রতিদিনকার সাধারণ দরকারেও করতে হয় ড্রিলিং। চকচকে, তকতকে আর মসৃণ দেয়ালখানির বুক চিড়ে ড্রিল বিটের নির্মম খনন পছন্দ না অনেকেরই। কিন্তু প্রয়োজন মানে না পছন্দ-অপছন্দের বালাই। শত অনিচ্ছা সত্ত্বেও দেয়ালে ড্রিল করতেই হয়। আর সেই ড্রিলিং যদি যুতসই না হয়, কিংবা ভুলভাল ড্রিল করার কারণে যদি খসে যায় দেয়ালের পলেস্তারা, তাহলে কেমন হবে ব্যাপারটা?

ড্রিলিংকে আপাতদৃষ্টিতে যতটা সহজ মনে হচ্ছে, আদতে ততটাও সহজ নয় এ কাজ। বরং কিছু বিষয় মাথায় না রাখলে পুরো দেয়ালের সৌন্দর্যই নষ্ট হতে পারে, ঘটতে পারে দুর্ঘটনাও।

দেয়াল ভেদে খেয়াল

ড্রিল করার প্রথম শর্ত দেয়ালের ধরন বোঝা এবং সেই অনুযায়ী ড্রিল মেশিনের বিট নির্ধারণ করা। ভুল বিটের ড্রিলিংয়ে হতে পারে বিস্তর ক্ষতি। প্লাস্টার বা পলেস্তারা করা দেয়ালে ‘ড্রাইওয়াল’ বিট ব্যবহার করতে হবে। কাঠের দেয়ালের জন্য রয়েছে ‘স্পার পয়েন্ট’ বিট। অন্যদিকে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত ‘ম্যাসনারি’ বিট ইট/পাথরের দেয়াল ড্রিল করার জন্য উপযোগী। আবার মোজাইক করা দেয়াল ড্রিল করার জন্য রয়েছে বিশেষভাবে তৈরি ‘টাইল’ বিট।

জানা থাকা চাই দেয়ালের ভেতরকার পাইপ/বৈদ্যুতিক তারের অবস্থান ঘরের দেয়াল ড্রিল করার একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেয়ালের মধ্য দিয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক তার এবং পানির পাইপের অবস্থান নির্ধারণ। ভুলক্রমেও যদি ড্রিল করতে গিয়ে বৈদ্যুতিক তারের ক্ষতি হয়ে যায়, কিংবা পানির বা গ্যাসের পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা ডেকে আনবে বহুবিধ বিপত্তি। দেয়াল খুড়ে সেই ক্ষতিগ্রস্ত তার বা পাইপ মেরামত একদিকে যেমন শ্রমসাধ্য, অন্যদিকে রয়েছে দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও। তাই ড্রিল করার পূর্বে দেয়ালের ভেতরে পাইপ বা বৈদ্যুতিক তার রয়েছে কিনা সেই বিষয়ে সম্যক ধারণা রাখতে হবে। প্রয়োজনে বাড়ি তৈরির প্রাথমিক নকশা দেখে নেয়া যেতে পারে।

এক্ষেত্রে পূর্বসচেতনতার কয়েকটি সহজ উপায় আছে। প্রথমেই ভেবে নিতে হবে বাসার কোথায় কোথায় সবচেয়ে বেশি পাইপ এবং বৈদ্যুতিক তার থাকতে পারে। সহজ উত্তর- রান্নাঘর, গোসলখানা এবং বাসার যে অংশে বৈদ্যুতিক মিটার থাকে। তাই রান্নাঘর বা গোসলখানার পাশের ঘরের দেয়ালে ড্রিল করার সময় অবশ্যই অধিক সচেতন হতে হবে। এই দেয়ালগুলো খুব বেশি প্রয়োজন না হলে এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

দেয়ালের ভেতরে পাইপ ও তারের অবস্থান নির্ধারণে আজকাল স্টাড সেন্সর নামক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এই প্রযুক্তি সহজলভ্য না হলে দেশীয় পন্থায় চক দিয়ে দেয়ালে দাগ কেটে পাইপ ও তারের অবস্থান চিহ্নিত করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে পাইপের মুখ থেকে শুরু করে অনুমান নির্ভর দাগ কাটা হয় যা শতভাগ সঠিক হবার নিশ্চয়তা দেয় না।

ব্যক্তিগত সুরক্ষা ছোট-বড় যেকোনো কাজেরই প্রথম শর্ত ‘সেফটি ফার্স্ট’। মনে রাখতে হবে, পাইপ বা তারের ক্ষতিসাধন না করার ব্যাপারে যতটা সাবধানতা অবলম্বন করছি, ততটাই সাবধান হতে হবে ব্যক্তিগত সুরক্ষার ব্যাপার। আর এক্ষেত্রে প্রথমেই আসবে সুরক্ষাপ্রদানকারী চশমা। ড্রিলের সময় ধুলোময়লার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইট-পাথরের কণা ছিটকে এসে চোখের অপূরণীয় ক্ষতি করে ফেলতে পারে। তাই চশমা পরিধান করা আবশ্যক।

পোশাকের ক্ষেত্রেও সচেতন হতে হবে; ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করে ড্রিলিং করা যাবে না। সম্ভব হলে ‘প্রোটেকটিভ ক্লোদিং’ বা বিশেষ সুরক্ষাপ্রদানকারী পোশাক পরে কাজ করতে হবে। অবশ্যই গ্লাভস পরে নিতে হবে। গ্লাভস ব্যবহারে অপ্রত্যাশিত যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বৈদ্যুতিক শক খাওয়ার ভয় থাকে না। এছাড়াও চুল বেঁধে রাখতে হবে, অলংকারজাতীয় কোনো কিছু পরিধান করা থাকলে তা ড্রিলিংয়ের সময় খুলে রাখতে হবে। ড্রিল করার পর সাথে সাথেই বিট ধরা যাবে না, কেননা ঘর্ষণের কারণে প্রচণ্ড তাপ উৎপাদিত হয়ে বিট ভীষণ গরম হয়ে থাকে। আবার অনেক ক্ষেত্রে বিট যথাযথভাবে লাগানো হয় না এবং ড্রিলিং চলাকালীন তা খুলে যায় ও ছিটকে বেরিয়ে আসে। এতে মারাত্মক দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। তাই ড্রিলিং শুরুর পূর্বে অবশ্যই বিট সঠিকভাবে লাগিয়ে নিতে হবে।

অন্যান্য ড্রিলিংয়ে চক বা মার্কার ব্যবহার করা ভুলত্রুটি এড়ানোর একটি কার্যকর পদ্ধতি। যেহেতু যত কম ড্রিল করা যায়, দেয়ালের সৌন্দর্য ঠিক রাখার জন্য তা তত ভালো। তাই ভুল এড়ানোর জন্য প্রথমেই পুরো দেয়ালের কোথায় কোথায় ড্রিল করতে হবে তা চক দিয়ে চিহ্নিত করে ফেলতে হবে।

আরেকটি সাধারণ ভুল যা অনেকেই করে থাকে তা হলো ড্রিল মেশনটি সঠিকভাবে ধরতে না পারা। যেসকল ড্রিলের একটি হাতল থাকে, সেগুলোর ক্ষেত্রে এক হাতে হাতল ধরার পাশাপাশি অন্য হাতটি থাকবে মেশিনের উপরের দিকটায় যেন ভারসাম্য তৈরি হয়। এছাড়াও মেশিনটি যথেষ্ট শক্ত করে ধরতে হবে কেননা ড্রিলিং শুরু হলে যদি হাতের অবস্থান পরিবর্তন হয় তাহলে দেয়ালের ছিদ্রটি বেশি প্রশস্ত হয়ে যেতে পারে। তাই ড্রিল শুরু করবার পূর্বে যথাযথ অবস্থানে পূর্ণ ভারসাম্য নিয়ে দাঁড়িয়ে কাজ শুরু করতে হবে। সবশেষ, দেয়ালে ছিদ্র অতিরিক্ত বড় না হওয়া নিশ্চিত করতে ড্রিল বিটে ‘মেজারমেন্ট ফ্ল্যাগ’ লাগানো যেতে পারে কিংবা মার্কার দিয়ে চিহ্নিত করে রাখা যেতে পারে। দেয়ালে ড্রিল করাকে ছোট কাজ ভেবে অবজ্ঞা না করে বরং কিছু বিষয়ে একটু সচেতন হলেই সহজে কাজ সমাধা হবে, দেয়ালের মুখশ্রীও পরিবর্তন হবে না খুব বেশি, আর ঘটবে না কোনোরূপ দুর্ঘটনা।

No comment yet, add your voice below!


Add a Comment

বাড়ি বানাতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য একটি পরিপূর্ণ ওয়েব পোর্টাল- হোম বিল্ডার্স ক্লাব। একটি বাড়ি নির্মাণের পেছনে জড়িয়ে থাকে হাজারও গল্প। তবে বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে পদে পদে নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হই আমরা। এর মূল কারণ হচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়ি তৈরির নিয়ম নীতি সম্পর্কে ধারণার অভাব। সেই অভাব পূরণের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে হোম বিল্ডার্স ক্লাব। আমাদের রয়েছে একদল দক্ষ বিশেষজ্ঞ প্যানেল। এখানে আপনি একটি বাড়ি তৈরির যাবতীয় তথ্য, পরামর্শ ও সাহায্য পাবেন।

© All Rights Reserved by Home Builders Club