ইন্টেরিয়র ডিজাইন কেমন হবে: ক্লাসিক নাকি আধুনিক?

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

কর্মব্যস্ত নাগরিক জীবনে প্রশান্তি এনে দিতে পারে অন্দরমহলে একটুখানি নান্দনিকতার ছোঁয়া। আর এই নান্দনিকতার স্পর্শ এনে দিতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ইন্টেরিয়র ডিজাইন কৌশল। অন্দরসজ্জাকে স্বাস্থ্যকর এবং একই সাথে মনোরম করে তোলার জন্য বিভিন্ন ধরনের ইন্টেরিয়র ডিজাইনের মধ্যে বর্তমান সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয় হলো ক্লাসিক ও আধুনিক ডিজাইন। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই ক্লাসিক ও আধুনিক ডিজাইনের বিস্তারিত।

ক্লাসিক ইন্টেরিয়ার ডিজাইন

মূলত ইউরোপীয় সংস্কৃতি থেকে ক্লাসিক ইন্টেরিয়র ডিজাইনের সূত্রপাত হয়। এটি ভিক্টোরিয়ান বা আর্ট ডেকো স্টাইল নামেও পরিচিত। রোমান এবং গ্রিকদের আভিজাত্যপূর্ণ আর্ট মূলত এই ডিজাইনের অনুপ্রেরণা হিসাবে কাজ করে। এর বিশেষত্ত্ব হল ডিজাইনে লাইন এবং জ্যামিতিক ফর্মের ব্যবহার যা ডিজাইনকে দেয় একই সাথে তীক্ষ্ণ ও স্নিগ্ধ মাধুর্য।

ক্লাসিক ইন্টেরিয়র ডিজাইনের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো রঙের ব্যবহার। এখানে যে রংগুলো প্রধান্য পায় তা হলো কালো, খয়েরি, ধূসর, ছাই, রূপালি, সোনালি এবং নীলাভ ধূসর রঙের বিভিন্ন শেড, বিশেষত এসব রঙের বৈচিত্র্যপূর্ণ মেটালিক শেড। এসব রঙের বিভিন্ন মাত্রার মিশ্রণের মাধ্যমে অন্দরসজ্জাকে একটি পরিশীলিত রূপ প্রদান করা হয়।

ইউরোপিয়ান স্টাইলের অন্দরমহলের ফার্নিচার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দেখা যায় আভিজাত্য এবং গাম্ভীর্যতার পরিচয়। ফার্নিচারে কাঠের কার্ভিং বা মোল্ডিংসম্পন্ন সূক্ষ্ণ ডিজাইনের সাথে সাথে ডিজাইনে প্রাধান্য পায় দেয়ালে বড় পেইন্টিঙের ব্যবহার, নির্দিষ্ট টাইপের ফুলবিশিষ্ট ফুলদানির ব্যবহার এবং জ্যামিতিক প্যাটার্নসম্পন্ন ফ্যাব্রিকের ব্যবহার।

আধুনিক ইন্টেরিয়র ডিজাইন

আধুনিক ইন্টেরিয়র ডিজাইন বলতে মূলত কনটেম্পোরারি ধাঁচের ডিজাইনকেই বোঝানো হয়। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এবং বাউহাউসের মডার্ন আর্ট মুভমেন্ট থেকে এই আধুনিক ডিজাইনের সূত্রপাত। কিন্তু সময়ের সাথে বিভিন্ন পরিবর্তনের পর বর্তমানে তা মিনিমালিস্টিক ডিজাইন হিসাবে দেশে এবং পাশ্চাত্যে দুই জায়গাতেই ব্যাপক জনপ্রিয়। 

আধুনিক ইন্টেরিয়র ডিজাইনের মূল প্রতিপাদ্যই হল সিম্পল এবং মিনিমাল ডিজাইন। রঙের ব্যবহারে প্রাধান্য পায় বিভিন্ন স্নিগ্ধ রং যেমন সাদা, কালো, নীল এবং যেকোনো হালকা রঙের মনোক্রোম শেডের প্রয়োগ। এসব শুভ্র এবং স্নিগ্ধ রঙের ব্যবহার পুরো অন্দরমহলকে দেয় পরিষ্কার এবং সতেজ রূপ।

আধুনিক ডিজাইনে ফার্নিচার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও দেখা যায় বাহুল্য- তার যথাসম্ভব কম ব্যবহার। ফার্নিচার এবং ফার্নিশিংয়ের ক্ষেত্রে ডিটেইলিং এর পরিবর্তে দেখা যায় সিম্পল ডিজাইন। ম্যাটেরিয়াল হিসাবে প্রাধান্য পায় গ্লাস এবং স্টেইনলেস স্টিল। ফ্যাব্রিকে জ্যামিতিক প্যাটার্নের পরিবর্তে জায়গা দখল করে একরঙা ফ্যাব্রিকের ব্যবহার।

ক্লাসিক এবং আধুনিক ডিজাইনের বিশ্লেষণমূলক তুলনার ভিত্তিতে যা স্বল্পকথায় আলোকপাত করা যায় তা হলো-

  • ক্লাসিক ডিজাইন হল উডেন প্যানেল এবং মোল্ডিংয়ের সমন্বয়ে গঠিত ইউরোপিয়ান স্টাইলের প্রতিচ্ছবি, যেখানে আধুনিকে প্রাধান্য পায় গ্লাস ও স্টিলের সিম্পল মিনিমাল ডিজাইন।
  • ক্লাসিক ডিজাইনে দেখা যায় জ্যামিতিক প্যাটার্নসমৃদ্ধ ব্যয়বহুল ফ্যাব্রিক যেমন- সিল্ক, লিনেন, মখমলের ব্যবহার, অপরদিকে আধুনিক ডিজাইনে সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে প্যাটার্নবিহীন সিম্পল ফ্যাব্রিকের ব্যবহার।
  • ক্লাসিক ডিজাইনে উডেন ফ্লোর বা কার্পেটের ব্যবহার দেখা যায়, যা আধুনিকে দেখা যায় না।
  • ক্লাসিক ডিজাইনে রংয়ের ব্যবহারে গাম্ভীর্যের ব্যাপার বিশেষ গুরুত্ব পায় যেখানে আধুনিক ডিজাইনে প্রাথমিক রঙের যথাসম্ভব বহুল প্রয়োগ করা হয়।

বর্তমান সময়ে আভিজাত্যপূর্ন ক্লাসিক ডিজাইনের সাথে তাল মিলিয়ে জনপ্রিয়তায় সমান তালে এগিয়ে আছে সারল্যপূর্ণ আধুনিক ডিজাইন। স্বল্প জায়গার ছোট অ্যাপার্টমেন্টকে মনের মতো করে সাজিয়ে তুলতে আধুনিক ডিজাইন হতে পারে একটি যুগোপযোগী সর্বোৎকৃষ্ট সমাধান। এ দুই ধরনের ডিজাইন ছাড়াও সমগ্র বিশ্বে আরো যা যা প্রচলিত আছে তার মধ্যে মিড-সেঞ্চুরি মডার্ন স্টাইল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্টেরিয়র ডিজাইন, একলেকটিক ডিজাইন স্টাইল ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

No comment yet, add your voice below!


Add a Comment

বাড়ি বানাতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য একটি পরিপূর্ণ ওয়েব পোর্টাল- হোম বিল্ডার্স ক্লাব। একটি বাড়ি নির্মাণের পেছনে জড়িয়ে থাকে হাজারও গল্প। তবে বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে পদে পদে নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হই আমরা। এর মূল কারণ হচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়ি তৈরির নিয়ম নীতি সম্পর্কে ধারণার অভাব। সেই অভাব পূরণের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে হোম বিল্ডার্স ক্লাব। আমাদের রয়েছে একদল দক্ষ বিশেষজ্ঞ প্যানেল। এখানে আপনি একটি বাড়ি তৈরির যাবতীয় তথ্য, পরামর্শ ও সাহায্য পাবেন।

© 2020 Home Builders Club. All Rights Reserved by Fresh Cement