করোনা-পরবর্তী সময়ে শ্রমিক নিয়োগ: যা যা মাথায় রাখা প্রয়োজন

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী এক ভয়াবহতার নাম করোনাভাইরাস। করোনা পরবর্তী সময়ে ‘নিউ নরমাল’ পরিস্থিতির সাথে তাল মেলাতে সকল ক্ষেত্রেই আসছে কাজ করার নতুন নিয়মনীতি। এসময়ে কর্মক্ষেত্রে সঠিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্যান্য সকল শিল্পের মতো নির্মাণ শিল্পেও প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতামূলক বিশেষ ব্যবস্থা। এজন্য সাইটে বিভিন্ন ধাপে সঠিক উপায়ে পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন। 

কাজ শুরুর পূর্বপরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ

নির্মাণ কাজে কোভিড-১৯ এর প্রকোপ রুখতে সর্বপ্রথমে প্রয়োজন সঠিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং তার সুষ্ঠু প্রয়োগ। নিম্নবর্ণিত পদক্ষপগুলোর সাহায্যে সাইটে শ্রমিকদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশেই কমানো সম্ভব।

১. নির্মাণকাজে যথাসম্ভব বড় শ্রমিক গ্রুপ নিয়োগ প্রত্যাহার করে ছোটো গ্রুপে কাজ বিভাজনের উদ্যোগ নিতে হবে।

২. কর্মরত সকল শ্রমিককে তাদের কাজের ওপর ভিত্তি করে পারসোনাল প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট (PPE) প্রদান করতে হবে। এছাড়া ও নির্মাণের সাথে জড়িত সকল শ্রমিককে একাধিক পুনরায় ব্যবহারযোগ্য মাস্ক প্রদান করতে হবে।

৩. সাইটে পর্যাপ্ত হাত ধোয়ার স্থান ও হাত ধোয়ার এবং বিশুদ্ধকরণের সামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

৪. নির্মাণ সাইটে শ্রমিকদের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। প্রতিটি শ্রমিককে তার নিজস্ব যন্ত্রপাতি সেট সরবরাহ করতে হবে যাতে ছোঁয়াচে সংক্রমণের আশংকা না থাকে।

৫. কাছাকাছি বা পাশ্ববর্তী এলাকা থেকে শ্রমিক নিয়োগের চেষ্টা করতে হবে।

৬. নির্মাণ সাইটে পূর্বাবস্থার চেয়ে আরো জোরদার সুপারভিশন ব্যবস্থা প্রয়োগ করতে হবে।

শ্রমিকদের জন্য দিকনির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ

১. কাজ শুরুর পূর্বে শ্রমিকদেরকে কোভিড-১৯ এর বিস্তার এবং সংক্রমণ রোধে সরকার এবং WHO (World Health Organization) প্রণীত সকল দিকনির্দেশনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করতে হবে। কেননা, একমাত্র সঠিক সচেতনতাই পারবে এই মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগ থেকে সবাইকে সাবধান রাখতে।

২. হাত সঠিকভাবে সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার (৬০% অ্যালকোহলযুক্ত) দিয়ে ধোয়ার ব্যাপারে নির্দেশনা প্রয়োগ এবং কাশি, থুতু ফেলার ক্ষেত্রে সঠিকভাবে টিস্যুর ব্যবহার ও নির্দিষ্ট ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিনে ফেলার ব্যাপারে নির্দেশনা প্রদান করা জরুরি।

৩. সাইটে জনসমাগম হয় এমন জায়গাগুলোতে, যেমন- টয়লেট, ডাইনিংয়ে শ্রমিকদের ৬ ফুট দূরত্ব নিশ্চিতকরণ এবং এসকল স্থানে নিরাপদ দূরত্ব নির্দেশক প্রতীক ব্যবহার করলে ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

৪. কোনো শ্রমিকের পরিবারের কেউ অসুস্থ থাকলে তাকে আইসোলেশনে পাঠানো ও পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রয়োগ করা প্রয়োজন। 

৫. শ্রমিকদের কাজের সময়ে সর্বদা নিরাপদ দূরত্ব (৬ ফুট) বজায় রাখা নিশ্চিত করতে হবে। 

৬. শ্রমিকদের প্রতিদিনের কাজের পর নিয়মিত জামা কাপড় সঠিকভাবে পরিষ্কারের ব্যাপারে অবহিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

৭. কাজের ক্ষেত্রে অনেক সময় ওয়ার্কিং গ্লাভস ব্যবহারের প্রয়োজন হয়, কিন্তু তা কোভিড-১৯ প্রতিরোধী নয়। কাজেই ওয়ার্কিং গ্লাভস ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রেও হাত সঠিকভাবে ব্যবহারের নির্দেশাবলি প্রযোজ্য হবে।

সাইটে প্রবেশ ও প্রস্থানের নির্দেশাবলী

১. প্রয়োজন ব্যতীত সাইটে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা এবং মনিটরিং , সুপারভিশন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা।

২. সাইটে প্রবেশের পূর্বে সকলের শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করা।

৩. সাইটে প্রবেশস্থানে স্ক্রিনিং এবং হাত ধোয়ার পর্যাপ্ত বুথের ব্যবস্থা রাখা।

৪. সাইটে সারিবদ্ধভাবে প্রবেশের সময় যাতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

৫. সাইটেই প্রবেশ এবং বহির্গমন গেইট সঠিকভাবে চিহ্নিত করা।

৬. সাইটে প্রবেশের সময় উপসর্গ আছে এমন ব্যক্তি এবং বয়স্ক, অসুস্থ এবং গর্ভবতী শ্রমিককে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রবেশ করতে না দেওয়া।

৭. সাইটে প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় শ্রমিকদের সঠিক নিয়ম মেনে হাত ধোয়া নিশ্চিত করা।

সর্বোপরি, সাইটে সঠিক নিরাপত্তার স্বার্থে আরো যা যা প্রয়োজন তা হলো:

১. কাজ করতে গিয়ে কারো লক্ষণ প্রকাশ পেলে তাকে কিছু সুনির্দিষ্ট জায়গায় এবং টিস্যুর সাহায্যে কফ, থুতু ফেলার নির্দেশ প্রদানসহ দ্রুততম সময়ে তাদের আইসোলেশনে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। 

২. কাঁচামাল পরিবহনকারী গাড়ি আসলে, ড্রাইভারদের যথাসম্ভব না নেমে, যথাস্থানে তা নামানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

৩. হাত ধোয়ার জায়গা ও টয়লেটসহ পুরো সাইট নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

৪. সকল যন্ত্রপাতি ও বারবার স্পর্শ লাগে এমন সাইট এরিয়াগুলো প্রতিদিন নির্ধারিত সময় পর পর জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

৫. নিরাপদ পানি সরবরাহসহ শ্রমিকদেরকে ‘ওয়ান টাইম কাপ’ বা স্ব স্ব ব্যক্তিগত কাপ বা গ্লাস ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে।

৬. কনস্ট্রাকশন সাইটের সকল বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে।

৭. সাইটে শ্রমিকদের মধ্যে সময় ও কাজ ভেদে শিডিউল পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে একই সময়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক শ্রমিক কাজ করেন।

কন্সট্রাকশন সাইটের কাজে বিপুল পরিমাণ শ্রমিক একত্রে কাজ করা সত্ত্বেও সঠিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও তা সুষ্ঠুভাবে প্রয়োগ করলে কাজের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব। এক্ষেত্রে কাজের সাথে জড়িত সকলকেই নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে, হতে হবে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন।

No comment yet, add your voice below!


Add a Comment

বাড়ি বানাতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য একটি পরিপূর্ণ ওয়েব পোর্টাল- হোম বিল্ডার্স ক্লাব। একটি বাড়ি নির্মাণের পেছনে জড়িয়ে থাকে হাজারও গল্প। তবে বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে পদে পদে নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হই আমরা। এর মূল কারণ হচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়ি তৈরির নিয়ম নীতি সম্পর্কে ধারণার অভাব। সেই অভাব পূরণের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে হোম বিল্ডার্স ক্লাব। আমাদের রয়েছে একদল দক্ষ বিশেষজ্ঞ প্যানেল। এখানে আপনি একটি বাড়ি তৈরির যাবতীয় তথ্য, পরামর্শ ও সাহায্য পাবেন।

© 2020 Home Builders Club. All Rights Reserved by Fresh Cement