কংক্রিট ব্লকের সুবিধা ও সম্ভাবনা

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

পরিবেশ দূষণে পর্যদুস্ত এই বাংলাদেশের বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান কারণ ইটভাটা। বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা এসব ইটভাটার কারণে একদিকে যেমন বায়ু দূষিত হচ্ছে, তেমনই কমে যাচ্ছে কৃষিজমির পরিমাণ। পরিবেশের স্বার্থে ইটের ব্যবহার কমানোর লক্ষ্যে পরিবেশ সচেতন মানুষেরা সবসময়ই সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন। এরই প্রেক্ষিতে আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সকল সরকারি স্থাপনায় ইটের ব্যবহার কমিয়ে শূন্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ইটের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হবে পরিবেশবান্ধব ও অর্থসাশ্রয়ী কংক্রিট ব্লক। 

১৯৯৮ সালে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কনকর্ডের ব্লক তৈরির প্ল্যান্ট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে এর পদচারণা শুরু হয়। জেনে নেওয়া যাক পরিবেশবান্ধব এই নির্মাণ উপকরণের খুটিনাটি।

সাধারণত দেয়াল নির্মাণের কাজে এ ধরনের ব্লক ব্যবহৃত হয়। সিমেন্ট ও বালুর সমন্বয়ে তৈরি হয় এগুলো। ক্ষেত্রবিশেষে তার সাথে মেশানো হয় ৪ মিলিমিটারের কণা বা ডাস্ট। হলো (Hollow), সলিড (Solid), ইন্টারলকিং (Interlocking), থার্মাল (Thermal) ইত্যাদি বিভিন্ন রকমের কংক্রিট ব্লক হতে পারে। থার্মাল ব্লকে বিশেষ তাপরোধী উপাদান ইপিএস ব্যবহার করা হয়, ফলে এর ব্যবহার শীতে ও গরমে কিছুটা স্বস্তি দেয়। হলো ব্লক ব্যবহার করলে দেয়ালের খরচ কমে যায় অনেকটাই। বিভিন্ন রঙের সংমিশ্রণে রঙিন ব্লকও তৈরি করা সম্ভব।

হলো ব্লক

এরা ২০% সিমেন্ট এবং ৮০% বালুর সমন্বয়ে গঠিত। ভারবাহী ও ভারবাহী নয় এই দুই ধরনের দেয়াল নির্মাণেই ব্যবহৃত হয় এরা। আকারে বড় হওয়ায় পরিমাণে কম লাগে এবং মর্টারের খরচও কমে যায়। এরা তাপ, বিদ্যুৎ, শব্দ ও আর্দ্রতা অপরিবাহী। এর সুবিধাগুলো হলো-

  • স্থায়িত্বকাল ও কাঠামো বেশ ভালো।
  • শব্দ শোষণ ক্ষমতা অনেক বেশি।
  • তাপ ও আর্দ্রতা অপরিবাহী, ফলে গরমের দিনে ঘর থাকে ঠাণ্ডা।
  • তৈরি করতে জ্বালানির অপচয় কমে।
  • পরিবেশ দূষণ রোধ হয়।

থার্মাল ব্লক

প্রচলিত ইটে জ্বালানিয় অপচয় ও ব্যয়বহুলতার কথা বিবেচনা করে পলিস্টাইরিন সহযোগে আনা হয় অত্যন্ত হালকা ও ব্যয়সাশ্রয়ী থার্মাল ব্লক। এ ব্লকের সুবিধাগুলো-

  • তাপ অপরিবাহী বলে গরম ও ঠাণ্ডা দুই সময়েই অত্যন্ত আরামদায়ক।
  • ওজনে হালকা হওয়ায় কারণে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় বেশ উপযোগী।
  • শব্দ নিরোধক ও পরিবেশবান্ধব।

ইন্টারলকিং ব্লক

নদীর ড্রেজড সয়েলের সাথে আনুপাতিক হারে সিমেন্ট ও সয়েল মিশিয়ে চাপ প্রয়োগ করে এই ব্লক প্রস্তুত করা হয়। এতে আলাদা মর্টারের বদলে নির্দিষ্ট দূরত্বে আনুভূমিক রড স্থাপন করে সংযোগ দেওয়া হয়। এর সুবিধাগুলো-

  • মর্টারের প্রয়োজন হয় না।
  • নির্মাণের সময় কম লাগে।
  • নির্মাণের খরচ কমে যায় অনেকটাই।

মেশিনের সাহায্য ছাড়াও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে তৈরি করা যায় এদের। বড় কারখানা থেকে শুরু করে ছোট নির্মাণ সাইট, সব জায়গাতেই ডিজাইন ও আকৃতি ভেদে কংক্রিট ব্লক বানানো সম্ভব। তবে মেশিনের মাধ্যমে অল্প সময়ে ও অল্প ব্যয়ে অনেক ব্লক উৎপাদন করা যায়। বাসায় তৈরি ফর্মা বা মেশিনের সাহায্যে দিনে ১০০টি ব্লক তৈরি করা সম্ভব। আর বড় বড় কোম্পানির প্লান্টে প্রতিদিন ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত ব্লক উৎপাদন সম্ভব।

আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পরিবেশ দূষণ বিবেচনায় ইট ভাটার ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশেও Sustainable Development Goals (SDG) বাস্তবায়নে, পরিবেশের দিক থেকে কংক্রিট ব্লকের ব্যবহার একটি মূল্যবান পদক্ষেপ হতে পারে। এতে যেমন নির্মাণ ব্যয় কমে আসবে, তেমনই এসব ব্লক তৈরির কাজে দেশের অনেক মানুষের কর্মসংস্থানসহ দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সৃষ্টি হবে অপার সম্ভাবনা।

No comment yet, add your voice below!


Add a Comment

বাড়ি বানাতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য একটি পরিপূর্ণ ওয়েব পোর্টাল- হোম বিল্ডার্স ক্লাব। একটি বাড়ি নির্মাণের পেছনে জড়িয়ে থাকে হাজারও গল্প। তবে বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে পদে পদে নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হই আমরা। এর মূল কারণ হচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়ি তৈরির নিয়ম নীতি সম্পর্কে ধারণার অভাব। সেই অভাব পূরণের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে হোম বিল্ডার্স ক্লাব। আমাদের রয়েছে একদল দক্ষ বিশেষজ্ঞ প্যানেল। এখানে আপনি একটি বাড়ি তৈরির যাবতীয় তথ্য, পরামর্শ ও সাহায্য পাবেন।

© 2020 Home Builders Club. All Rights Reserved by Fresh Cement